গুজরাটের আনন্দ জেলায় এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয় একটি পরিবার, যখন তাদের গৃহের বাথরুমের ভেতর থেকে সাত ফুট লম্বা এক জলজ্যান্ত কুমির উদ্ধার করা হয়। বাড়িওয়ালা বলভাই চৌহানের ভাষায়, মাঝরাতে বাসভবনের চারপাশে কুকুরগুলোর লাগাতার ঘেউ ঘেউ ডাক শুনে ঘুম ছুটে যায়। কী কারণ তাকে তা খতিয়ে দেখতে তিনি বেরিয়ে পড়েন। অবশেষে বাথরুমের দ্বার খুললে তিনি ওই বৃহদাকার সরীসৃপটির সম্মুখীন হন, যাতে তোটা পরিবার আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
পরিবারটি পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করু দ্রুত বন বিভাগে যোগাযোগ করে। বনকর্মী ও একটি স্থানীয় বন্যপ্রাণী রক্ষা সংস্থার স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত দল সেখানে উপস্থিত হয়ে আসন। কাক্সিক্ষত প্রচেষ্টার প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় তারা কুমিরটিকে নিরাপদে আয়ত্তে আনতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে সেটিকে অদূরে একটি পুকুরের জলে ফেরি দেওয়া হয়।
উদ্ধার অভিযানের একটি ভিডিও ছড়িয়ে যায় বিভিন্ন সোসাল মাধ্যমেগুলোতে। সেখানে দেখা যায়, একটি সংকীর্ণ বাথরুম যা কাপড় ও নানা ঘরোয়া সরঞ্জাম দ্বারা বোঝাই হয়ে আছে, সেই স্থানটিতে থাকা কুমিরটির শরীরে দড়ির ফাঁস পরিয়ে এবং একটি লম্বা দণ্ড সহায়তায় একজন ব্যক্তি প্রাণীটিকে বের করার চেষ্টা করছেন। তাদের মূল লক্ষ্যই ছিল প্রাণীটিকে সুরক্ষিত কোনো প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রত্যাবর্তন করানো।
বনবিভাগের কর্মচারীরা ব্যাখ্যা দেন যে, বর্ষাকাল এ ধরনের ঘটনার জন্য বিশেষভাবে দায়ী। এই সময়ে অতিবৃষ্টির ফলে জলের স্তর বৃদ্ধি পেয়ে কুমিরেরা তাদের পরিচিত পরিসর ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। খাদ্য অন্বেষণ বা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনেই এগুলো প্রায়শ লোকালয়ের নিকটবর্তী হয়ে যায়।
অধিকর্তারা আরো জানান, পার্শ্ববর্তী মালাতাজ গ্রামস্থিত একটি পুকুরেই শতাধিক কুমিরের উপস্থিতি রয়েছে। সুতরাং বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশংকা স্থানীয় এলাকায় বেশ তীব্র।




