ইংরেজিতে যাকে স্নেক গার্ড বলা হয়, সেই চিচিঙ্গা বর্ষা মৌসুমের অন্যতম প্রধান ও সহজলভ্য সবজি। ভাজি কিংবা তরকারির পাশাপাশি বর্তমানে ফিউশন রান্নাতেও এটি দারুণ জনপ্রিয়। লাউ পরিবারের এই সবজিটি পানি ও ফাইবারে পরিপূর্ণ। উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশে ব্যাপকভাবে খাওয়া এই সবজির পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় একে রাখতে ইচ্ছে করবে।
ওজন কমাতে সহায়ক: যাঁরা শরীরের বাড়তি ওজন নিয়ে উদ্বিগ্ন, তাঁদের জন্য চিচিঙ্গা একটি আদর্শ খাবার। এতে উচ্চমাত্রায় ফাইবার থাকায় এটি পরিপাকতন্ত্রে দীর্ঘসময় অবস্থান করে, যার ফলে ক্ষুধার প্রবণতা কমে যায়। এতে করে অতিরিক্ত খাওয়ার ইচ্ছা অনায়াসে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পাশাপাশি এতে শর্করা ও চর্বির পরিমাণ নগণ্য, তাই পেট ভরে খেলেও ওজন বৃদ্ধির ভয় নেই। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, প্রতিদিনের সুষম খাদ্য তালিকান্ডার একটি অংশ হিসেবে চিচিঙ্গাকে রাখা যেতে পারে।
হৃদযন্ত্রের সুস্থতায়: জিরো কোলেস্টেরল সমৃদ্ধ এই সবজি হৃদপিণ্ডের জন্য অত্যন্ত উপকারী। পানি ও ফাইবারের প্রাচুর্য হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করে। হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি, হার্টের ব্যথা ও চাপ কমাতে প্রতিদিন দুই কাপ পরিমাণ চিচিঙ্গার রস খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।
কিডনির যত্নে: শরীর থেকে বর্জ্য পরিশোধনের কাজ করা কিডনির সুস্থতাতেও চিচিঙ্গার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্রি র্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে কিডনির কোষগুলোকো সুরক্ষিত করে এবং কোনো ক্ষতিকর উপাদান সৃষ্টিতে বাধা দেয়। কিডনি ও মূত্রথলির স্বাস্থ্য রক্ষায় এটি একাই যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারে। শুধু তাই নয়, লিভারের সক্রিয়তা বৃদ্ধিতেও এর কার্যকারিতা লক্ষ্য করা যায়।
শ্বসনতন্ত্রের আরোগ্যে: চিচিঙ্গায় বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরে উপস্থিত ফ্রি র্যাডিকেল দমন করে, যা কোষকে সতেজ রাখে এবং বিপাক কার্যাবলী সুষমভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করে। এর ফলে দেহে রক্ত ও অক্সিজেনের প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে। গবেষণায় উঠে এসেছে, হাঁপানি আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য চিচিঙ্গা বেশ উপকারী।
হজম প্রক্রিয়ায় প্রভাব: চিচিঙ্গার ফাইবার পরিপাকতন্ত্রের নানা অসুখ যেমন কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটব্যথা কিংবা বদহজম প্রতিরোধ করতে পারে। এটি পাকস্থলী পরিষ্কার করতেও দুষ্ট। হজম ক্ষমতা বাড়াতে প্রতিদিনের খাবারে এই সবজি রাখা উচিত বলে মত দিয়েছেন পুষ্টিবিদেরা।
তথ্যসূত্র: হেলথলাইন।




