চাকরির বাজারে এখন আর শুধু জীবনবৃত্তান্ত ও দক্ষতা যাচাই করেই কাজ হয় না। অনেক বড় কোম্পানির নিয়োগকর্তারা প্রার্থীদের লুকানো মানসিকতা ও আচরণ বুঝতে নানা কৌশল প্রয়োগ করেন। সম্প্রতি বিশ্বের বৃহত্তম হেজ ফান্ড ব্রিজওয়াটার অ্যাসোসিয়েটসের প্রাক্তন সিনিয়র রিক্রুটমেন্ট প্রধান ডেভ ক্লাইন তার ব্যবহৃত পাঁচটি বিশেষ পরীক্ষার কথা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রায় এক দশক ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে শীর্ষ নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা পদে কাজ করেছেন।
ক্লাইনের মতে, প্রথাগত সাক্ষাৎকার কখনোই সত্যিকারের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কর্মী চিহ্নিত করতে পারে না। তিনি বলেন, 'বেশিরভাগ সাক্ষাৎকার এমন লোক খোঁজার জন্য ডিজাইন করা হয় যারা নিয়ম মেনে চলে। পরে আমরা ভাবি কেন কেউ উদ্যোগ নেয় না।' এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই তিনি পাঁচটি টেস্ট তৈরি করেন, যা দিয়ে তিনি সাধারণ প্রার্থীদের থেকে সেরাদের আলাদা করতেন।
প্রথম টেস্টটি হলো '(অ)জনপ্রিয়তা প্রতিযোগিতা'। এখানে তিনি দেখতেন প্রার্থী কখনো নিরাপদ কোনো অবস্থান ছেড়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিয়েছেন কিনা। ক্লাইন বলেন, 'যদি উত্তর না হয়, তাহলে তারা কখনো নিজের উপর বাজি ধরেনি।' তাঁর মতে, এটি প্রার্থীর আত্মবিশ্বাস ও নিজের প্রবৃত্তির উপর বিশ্বাস রাখার ক্ষমতা প্রকাশ করে। তিনি জানান, এমন লোক প্রয়োজন যারা আগেই একা থাকার অনুভূতি সহ্য করেছেন।
দ্বিতীয় টেস্ট 'বিশ্বাসের পরীক্ষা'। এতে দেখা হতো প্রার্থী কখনো সংখ্যাগরিষ্ঠের বিপরীতে গিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিনা। ক্লাইনের বক্তব্য, 'সেরা লোকেরা অন্যদের সত্যি মানার আগেই কিছু দেখতে পায় এবং সেটার উপর কাজ করে।' তৃতীয় টেস্ট 'অধ্যবসায়ের পরীক্ষা'য় দেখা হতো প্রার্থী এমন কোনো কঠিন পরিস্থিতি অতিক্রম করেছেন কিনা যা অধিকাংশ মানুষকে ছেড়ে দিতে বাধ্য করত।
চতুর্থ টেস্ট 'সম্পদশীলতার পরীক্ষা'। এখানে প্রার্থীকে এমন সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো যেখানে কোনো রোডম্যাপ, বাজেট বা অনুমতি ছিল না। ক্লাইন বলেন, 'উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন লোকেরা জিজ্ঞাসা করে না এটি সম্ভব কিনা; তারা সৃজনশীল উপায় বের করে।' পঞ্চম টেস্ট 'আবেশের পরীক্ষা'। এতে দেখা হতো প্রার্থী নিজে থেকে কোনো বিষয়ে গভীরভাবে ডুব দিতে পারেন কিনা, এমনকি কেউ তাড়া না দিলেও। তিনি পরামর্শ দেন, প্রার্থীকে তার পছন্দের বিষয়ে কিছু শেখাতে বলুন এবং দেখুন কী হয়।
শুধু ব্রিজওয়াটার নয়, আরও অনেক কোম্পানিই অপ্রচলিত সাক্ষাৎকার পদ্ধতি ব্যবহার করছে। টুইলিওর সিইও খোজেমা শিপচ্যান্ডলার সিনিয়র প্রার্থীদের ৪৫ মিনিটের ডিনারে আমন্ত্রণ জানান এবং সেখানে তাদের আচরণ ও 'আমি' শব্দ ব্যবহারের ফ্রিকোয়েন্সি লক্ষ্য করেন। স্বাস্থ্যসেবা জায়ান্ট বুপার সিইও ইনিয়াকি এরেনো ৬ ঘণ্টার পরীক্ষা নেন এবং খাবারের সময় ওয়াইন অর্ডার করার পদ্ধতি দেখে প্রার্থীর উদ্যোগ মূল্যায়ন করেন। একজন বস কফি কাপ টেস্টে ব্যর্থ প্রার্থীদের নিয়োগ দেন না—তিনি দেখেন তারা খালি কাপ রান্নাঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যায় কিনা। আরেকজন লাঞ্চ সাক্ষাৎকারে লবণ, গোলমরিচ ও গরম সস নিয়ে প্রার্থীর আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন। স্টিভ জবসের বিখ্যাত 'বিয়ার টেস্ট' ছিল—তিনি দেখতে চাইতেন প্রার্থীর সঙ্গে তিনি সত্যিই আড্ডা দিতে চান কিনা।
ক্লাইন ২০২০ সালে ব্রিজওয়াটার ছেড়ে নিজের কোচিং প্রতিষ্ঠান এমজিএমটি প্রতিষ্ঠা করেন। এখন তিনি সামাজিক মাধ্যমে তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে সিইওদের পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, সাক্ষাৎকারে 'কঠোর সত্য' হলো, ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি কখনো উদ্যোগী কর্মী খুঁজে পায় না।




