আর্থিক খাতের সংকট মোকাবিলায় নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সমস্যাগ্রস্ত চারটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অস্থায়ী প্রশাসক এবং সহযোগী প্রশাসকদের। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের আলোকে রেজোল্যুশন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রোববার এক অফিস আদেশে এই নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একজন করে অস্থায়ী প্রশাসক ও দুজন করে সহযোগী প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে, ফলে মোট ১২ জন কর্মকর্তা এই দায়িত্ব পালন করবেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত এই দলগুলোর মাধ্যমে সংকটাপন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরাসরি তত্ত্বাবধান শুরু হলো।

যে চারটি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো—আভিভা ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পঞ্চম প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের বিষয়ে আদালতের আদেশ না আসায় এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি।

আভিভা ফাইন্যান্সের অস্থায়ী প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালক মো. আলাউদ্দীন হোসেন, যিনি ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট-১১-এ কর্মরত। তাঁর সহযোগী হিসেবে রয়েছেন অতিরিক্ত পরিচালক এ কে এম গোলাম বহুলুল ও মো. মাহবুবুর রহমান। অন্যদিকে, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের প্রশাসক করা হয়েছে ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট-২-এর পরিচালক আবু সামা মো. আতাউর রহমানকে, আর তাঁর সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রোকসানা আক্তার ও মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন বসির।

ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট-১০-এর পরিচালক মো. সাদেকুর রহমানকে। তাঁর সঙ্গে সহযোগী প্রশাসক হিসেবে থাকছেন সাদরিল আহমেদ ও মো. আল-আমিন। সর্বশেষ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমির পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, আর তাঁর সহযোগী হিসেবে রয়েছেন ফরিদ উদ্দীন আহমেদ ও জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া।

আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই প্রশাসক নিয়োগ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মোট ২৭ হাজার আমানতকারীর প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা জমা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের আগে প্রথম ধাপে ব্যক্তি আমানতকারীদের সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যার জন্য সরকারের সম্মতিও ইতোমধ্যে পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গত বছরের ডিসেম্বর শেষে এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ছিল ৯৩ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশের মধ্যে। তালিকাভুক্ত পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ।