স্টুডেন্ট ভিসায় বিদেশে প্রেরণের অজুহাতে বিপুল অংকের অর্থ আত্মসাৎ করার একটি মামলায় গ্রেপ্তারকৃত নাবিল ইউসুফের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (৫ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের এজলাসে শুনানি শেষে এই সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয়। মামলার তদন্তকারী সংস্থা উত্তরা পূর্ব থানা-পুলিশ আসামিকে আদালতে উপস্থাপন করে সাত দিনের হেফাজতে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ভিসাগাইড নামক একটি এজেন্সির আড়ালে নাবিল ইউসুফ ও তার সহযোগীরা স্টুডেন্ট ভিসা প্রক্রিয়াকরণের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতেন। বাদী জারিন তাসনীম সহ মোট ৩৬ জন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে তারা প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। অর্থ সংগ্রহকালে আক্রান্তদের হাতে চেক ও রসিদ তুলে দেওয়া হয়; কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও কাউকে বৈদেশিক পাঠানো হয়নি এবং কোনও টাকা ফিরতও দেওয়া হয়নি। প্রতারিত ব্যক্তিরা গত ৫ জুলাই প্রতিষ্ঠানের অফিসে গিয়ে দেখতে পান যে, কার্যালয়টি সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুলাই উত্তরা পূর্ব থানায় ভুক্তভোগী জারিন তাসনীম এই মামলাটি দায়ের করেন। তদন্তে নামা পুলিশ ৪ আগস্ট রাজধানীর ফার্মগেটের পূর্ব রাজাবাজার এলাকা থেকে নাবিল ইউসুফকে গ্রেফতার করে। তার পৈত্রিক বাসস্থান নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার সাত ভাইয়াপাড়া গ্রামে। এই মামলায় এখনও পর্যন্ত সাব্বির হোসেন, মতিউর রহমান, সাইদুর রহমান এবং রাবেয়া খাতুন তানিয়া নামে আরও চারজন সহ-আসামিকে আটক করে জেলহাজাতে প্রেরণ করা হয়েছে।

রিমান্ডের পক্ষে আবেদন করে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে যুক্তি প্রদান করেন যে, আসামিকে রিমান্ডে এনে জেরা করা হলে এই জালিয়াতি চক্রের কর্মপদ্ধতি, অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কৌশল, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের পরিচয়, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের প্রকৃত সংখ্যা এবং আত্মসাৎ করা টাকার বর্তমান হদিস সম্পর্কে অত্যাবশ্যকীয় সূত্র পাওয়া যাবে। একই কৌশলে অন্য কোনও ব্যক্তির সাথে ধোঁকাবাজি করা হয়েছে কিনা, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি উল্লেখ করেন।