লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলায় নিজের সাবেক স্ত্রীকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যা করার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন আবু বক্কর সিদ্দিক আত্মসমর্পণ করে কারাগারে গেছেন। গত সোমবার তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক সাদেকুর রহমান তা নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আমজাদ হোসাইন জানান, আদালতে আত্মসমর্পণের পর জামিন না পাওয়ায় তাকে সরাসরি জেলহাজতে নেওয়া হয়।
পুলিশের তদন্তে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৫ জুন সালেহা বেগম নামের ওই নারীকে হত্যা করা হয়। পরদিন কমলনগরের মতিরহাট এলাকার মেঘনা নদীর তীর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে ফাতেমা বেগম অজ্ঞাত আসামি করে কমলনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে ওই বছরের জুলাই মাসে মো. সেলিম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে জবানবন্দি দিয়ে হত্যায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে আবু বক্করের নাম উল্লেখ করেন। সেলিমের জবানবন্দির ভিত্তিতেই পুলিশ তদন্ত এগিয়ে নেয়।
তদন্ত কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান বর্তমানে নেত্রকোনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তিনি জানান, আবু বক্কর একসময় সালেহা বেগমের পূর্ব চর মার্টিনের বালির পোলে অবস্থিত বাড়িতে থাকতেন এবং সেখানে তাঁর সন্তানদের পড়ালেখা করাতেন। সালেহার প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবারের অজান্তেই তাঁকে বিয়ে করেন আবু বক্কর, যদিও তাঁর গ্রামের বাড়ি কমলনগরের চর কালকিনিতে আরেক স্ত্রী ও সন্তান ছিল। বিয়ের পর সালেহার কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা নেন তিনি, যার মাধ্যমে জমি কেনার কথা থাকলেও তা করেননি। উল্টো টাকা ফেরত না দিয়ে সালেহাকে তালাক দিয়ে সটকে পড়েন। পরে সালেহা টাকা ফেরতের জন্য চাপ দিলে তাকে খুন করার পরিকল্পনা করেন তিনি।
এ লক্ষ্যে আবু বক্কর ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে মো. সেলিমকে হত্যার প্রস্তাব দেন। চুক্তি অনুযায়ী, সেলিম কৌশলে সালেহাকে নির্জন স্থানে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যা করেন। হত্যার পর সালেহার কাছে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং পরে সাভারে গিয়ে সেগুলো বিক্রি করেন। পুলিশ ২০২৫ সালের ২৮ নভেম্বর এই মামলার অভিযোগপত্র দেয়, যেখানে আবু বক্করকে মূল পরিকল্পনাকারী ও সেলিমকে খুনি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর আত্মসমর্পণ করেন আবু বক্কর।
লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্যাহ জানান, আবু বক্কর বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর কোনো পদে নেই, তবে অতীতে তিনি দলটির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি এই হত্যাকাণ্ডকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।



