বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলায় এক বসতঘর থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে এই মামলা রুজু করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে কচুয়ার রাড়ীপাড়া ইউনিয়নের চান্দেরকোলা গ্রামে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন প্রয়াত আবদার আলী হাওলাদারের ছেলে আহাদ হাওলাদার (২৫), তার মা মনিরা বেগম (৬০) এবং নানি রাশিদা বেগম (৯৩)। রাশিদা বেগম বাগেরহাট সদর উপজেলার বৃষ্টিপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি মৃত আব্দুর রশীদের স্ত্রী।
মঙ্গলবার দুপুরের দিকে চান্দেরকোলা গ্রামের ওই বাড়ির ভেতরে তিনজনের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। আজ দুপুরে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের মর্গে তাদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। স্বজনরা জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত বলে তাদের ধারণা। বসতঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র, বিছানা, মশারি ও মাটির মেঝেতে রক্তের দাগ দেখা গেছে।
মনিরা বেগমের বড় ছেলে ফয়সাল হাওলাদার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ এবং কীভাবে এটি ঘটেছে—এ বিষয়ে পুলিশ এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি। তবে একাধিক সম্ভাব্য কারণ ধরে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মঙ্গলবার লাশ উদ্ধার করা হলেও অন্তত দুই দিন আগে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। নিহতদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে তদন্তকারীরা মনে করছেন, হত্যাকাণ্ডে হাতুড়ি, শাবল বা অনুরূপ কিছু ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি গলায় ফাঁস দেওয়ার চিহ্নও পাওয়া গেছে।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদ হাসান জানান, জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নানি রাশিদা বেগমের মরদেহ বিকেলে বৃষ্টিপুরের নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। অন্যদিকে মা মনিরা বেগম ও ছেলে আহাদ হাওলাদারের মরদেহ বাড়ির সামনের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে জানা গেছে।
নিহত আহাদ হাওলাদার তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। পেশায় তিনি ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ছিলেন। মেজ ভাই ফয়সাল হাওলাদার ঢাকায় চাকরি করতেন এবং বড় বোন রামিছা খাতুন গৃহবধূ। ফয়সাল হাওলাদার জানান, তাদের নানি রাশিদা বেগম কয়েক দিন আগে তাদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। গত রোববার রাত ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে সর্বশেষ তিনি মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। ওই দিনই ছোট ভাইয়ের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়। এরপর আর কারও সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। সোমবার ফোন দিলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। পাশের বাড়ির এক ভাবি জানান, ওই বাসায় ফ্যান চলছে কিন্তু মনিরা বেগমকে ডাকলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফোন দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। প্রথমে ফয়সাল ভেবেছিলেন সবাই নানাবাড়ি গেছেন। পরে তাঁর চাচাতো ভাই ফোন দিয়ে জানান, নানি মারা গেছেন। ফয়সাল আরও বলেন, তাদের কোনো শত্রু ছিল না। তাঁর মায়ের স্বপ্ন ছিল একটি ঘর তৈরি করা। তিনি ও তাঁর ছোট ভাই যা আয় করতেন, সবই মায়ের কাছে জমা দিতেন। বাড়ির অর্ধেক কাজ শেষ হলেও ছাদ এখনও বাকি। সেই ছাদের টাকাও মায়ের কাছে ছিল বলে তিনি জানান।


