মাস শেষে ব্যাংক ব্যালেন্স শূন্যের কোঠায় নামলেই যেন চিন্তার ভাঁজ পড়ে কপালে। সংসারের নানা খরচ মেটাতে গিয়ে সঞ্চয়ের সুযোগই আর হয়ে ওঠে না। তবে এই অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ব্যাপক প্রচার পাওয়া ‘১০০ এনভেলপস চ্যালেঞ্জ’-এর ধারণা। এই পদ্ধতিতে ১০০টি খাম সংগ্রহ করে প্রতিটিতে ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত নম্বর লিখতে হবে। এরপর সেই নম্বরকে ১০ দিয়ে গুণ করে নির্ধারণ করতে হবে খামে কত টাকা রাখা হবে—১ নম্বর খামে ১০ টাকা, ২ নম্বর খামে ২০ টাকা, ১০ নম্বর খামে ১০০ টাকা, ২৫ নম্বর খামে ২৫০ টাকা, ৫০ নম্বর খামে ৫০০ টাকা এবং ১০০ নম্বর খামে ১ হাজার টাকা। সবগুলো খাম পূরণ করা গেলে মোট জমা হবে ৫০ হাজার ৫০০ টাকা।

তবে প্রতিদিন নির্দিষ্ট কোনো খাম পূরণের বাধ্যবাধকতা নেই। আয় ও হাতে থাকা অর্থের ওপর ভিত্তি করে যেকোনো খাম বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল দিনে বড় অঙ্কের খাম পূরণ করা যেতে পারে, আবার টানাপোড়নের দিনে ছোট অঙ্কের খামেও কাজ চলে যায়। চাইলে প্রতিদিন একটি করে খাম পূরণ করা যায়, আবার সামর্থ্য থাকলে একদিনে একাধিক খামও ভরার সুযোগ আছে। মূল লক্ষ্য হলো সবগুলো খাম শেষ করা।

এই চ্যালেঞ্জটি ‘১০০ দিনে শেষ করতে হবে’ এমন কোনো নিয়ম নেই। যাঁদের মাসিক আয় নিয়মিত, তাঁরা ১০০ দিনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিতে পারেন। অনিয়মিত আয় বা ফ্রিল্যান্সিং পেশার সঙ্গে জড়িতদের জন্য ১০০ সপ্তাহের পরিকল্পনাও গ্রহণযোগ্য। এমনকি প্রতি সপ্তাহে দুটি করে খাম পূরণ করলে ৫০ সপ্তাহেই পুরো চ্যালেঞ্জটি সম্পন্ন করা সম্ভব। এই কৌশলে দৈনিক সঞ্চয়ের চাপ থাকে না, তবে লক্ষ্যপূরণে সময় লাগে কিছুটা বেশি।

চ্যালেঞ্জের শুরুর দিকে ছোট অঙ্কের খাম পূরণ করলেও বড় অঙ্কের খাম অনেকের জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। ৭০০ বা ১ হাজার টাকার খাম পূরণ করতে অসুবিধা হলে ধারাবাহিকভাবে নয়, বরং বেছে বেছে খাম পূরণ করা ভালো। মাসের শেষে অতিরিক্ত অর্থ হাতে এলে বড় খাম, আর খরচ বেশি হলে ছোট খাম বেছে নেওয়া যেতে পারে। ১ হাজার টাকার খাম একবারে পূরণ করা না গেলে ২৫০ টাকা করে চার কিস্তিতেও তা পূরণ করা যায়। খামের সংখ্যা নয়, আসল ব্যাপার হলো সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি করা।

এখনকার ডিজিটাল যুগে খামে টাকা রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে খাম ভরে সামনে রাখলে সঞ্চয়ের অগ্রগতি চোখে পড়ে, যা পরবর্তী খাম পূরণে প্রেরণা জোগায়। কিন্তু দীর্ঘদিন বাড়িতে নগদ টাকা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই নির্দিষ্ট অঙ্ক জমলে তা নিরাপদ সঞ্চয়ব্যবস্থায় সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই চ্যালেঞ্জের জন্য রঙিন খাম, আকর্ষণীয় বাক্সসহ নানা নান্দনিক উপকরণ ব্যবহার করতে দেখা যায়। তবে সঞ্চয়ের চেয়ে উপকরণ কিনতেই বেশি খরচ হয়ে গেলে চ্যালেঞ্জের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। তাই সাধারণ খাম দিয়েই শুরু করা উত্তম। সঞ্চয়ের লক্ষ্য হলো অর্থ জমানো, সাজসজ্জা কেনা নয়।

চ্যালেঞ্জ শুরুর আগে জমা হওয়া অর্থ কোথায় ব্যবহার করা হবে তা ঠিক করে নেওয়া ভালো। জরুরি তহবিল, সন্তানের পড়াশোনা, ঈদের ব্যয়, ভ্রমণ, ছোট ব্যবসার পুঁজি কিংবা বড় কোনো কেনাকাটার জন্য এই অর্থ কাজে লাগানো যেতে পারে। উচ্চ সুদের ঋণ থাকলে তা পরিশোধেও ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এই চ্যালেঞ্জের সবচেয়ে বড় অর্জন ৫০ হাজার ৫০০ টাকা সঞ্চয় নয়, বরং নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে ওঠাটাই মুখ্য।