বিশ্বজুড়ে সিনেপ্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে চলেছে ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন ছবি ‘দ্য ওডিসি’। ১৭ জুলাই বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের মতো একই দিনে বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সেও মুক্তি পেতে যাচ্ছে এই মহাকাব্যিক চলচ্চিত্রটি। গ্রিক কবি হোমারের প্রায় তিন হাজার বছর আগের অমর কাব্য ‘দ্য ওডিসি’ অবলম্বনে নির্মিত এই বিশাল বাজেটের সিনেমাটি নিয়ে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন ট্রোজান যুদ্ধ শেষে নিজ রাজ্য ইথাকায় ফেরার পথে বিপন্ন গ্রিক বীর ওডিসিউস। যুদ্ধে এক দশক কাটানোর পর ঘরে ফেরার পথে সঙ্গীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন তিনি। ভয়ংকর সমুদ্রযাত্রা, অচেনা দ্বীপ, রহস্যময় প্রাণী ও দেবদেবীর রোষ—এসব বাধা পেরিয়ে প্রায় ২০ বছর পর গৃহে ফেরার সংগ্রামই এই মহাকাব্যের মূল উপজীব্য।

ছবিতে ওডিসিউসের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ম্যাট ডেমন। তাঁর পুত্র টেলিম্যাকাসের চরিত্রে দেখা যাবে টম হল্যান্ডকে। স্ত্রী পেনেলোপের চরিত্রে রয়েছেন অ্যান হ্যাথাওয়ে। এ ছাড়াও রবার্ট প্যাটিনসন, জেন্ডায়া, শার্লিজ থেরন, মিয়া গোথ, বেনি সাফডি, জন বার্নথালসহ একাধিক তারকা অভিনয় করেছেন এই ছবিতে। নোলানের পূর্ববর্তী ছবি ‘দ্য ডার্ক নাইট’ ট্রিলজি, ‘ইনসেপশন’, ‘ইন্টারস্টেলার’ ও ‘ওপেনহাইমার’-এর মতো এবারও তিনি দর্শকদের চমক দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

নিজের ভাষায়, ‘দ্য ওডিসি’ তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড়, কঠিন ও উচ্চাভিলাষী প্রকল্প। নির্মাতা জানিয়েছেন, প্রতিটি সিনেমার নিজস্ব চ্যালেঞ্জ থাকে, কিন্তু এই ছবির প্রতিটি ধাপেই ছিল নতুন চ্যালেঞ্জ। হোমারের অমর কাব্যকে পর্দায় রূপ দেওয়া তাঁর দীর্ঘ চলচ্চিত্রজীবনের সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি। মরক্কো, গ্রিস, ইতালি ও আইসল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে হয়েছে শুটিং। যুদ্ধের বিশাল দৃশ্য, বিশালাকার সেট ও অ্যাকশন সিকোয়েন্স নির্মাণে মাসের পর মাস পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

টম হল্যান্ড শুটিংয়ের প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে বলেন, মরক্কোর সেটে পৌঁছে তাঁর মনে হয়েছিল যেন কয়েক হাজার বছর আগের পৃথিবীতে চলে গেছেন। একটি বালিয়াড়ি পেরিয়ে সামনে দেখেন হাজারো শিল্পী, সৈন্যদের সারি, সমুদ্রতীরে শত শত নৌকা ও বিশাল যুদ্ধের প্রস্তুতি। তাঁর ভাষায়, মনে হচ্ছিল তিনি কোনো সিনেমার সেটে নয়, ইতিহাসের একটি অধ্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছেন।

অন্যদিকে ম্যাট ডেমন জানিয়েছেন, হলিউডে দীর্ঘদিন কাজ করলেও এত বড় আয়োজন খুব কমই দেখেছেন। ট্রয়ের পতনের একটি দৃশ্যের শুটিংয়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, চারদিকে আগুনে জ্বলছে বাড়িঘর, হাজার হাজার এক্সট্রা শিল্পী যুদ্ধ করছেন, আগুনের মধ্য দিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছেন অভিনেতারা। শট শেষ হওয়ার পর সিনেমাটোগ্রাফার তাঁকে জানান, এত বিশাল আয়োজন আসলে পুরো ছবির একটি ফ্ল্যাশব্যাক দৃশ্যমাত্র।

প্রযুক্তিগত দিক থেকে ‘দ্য ওডিসি’ নোলানের ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায়। এটি তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, যা সম্পূর্ণ আইম্যাক্স ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে। নির্মাতার লক্ষ্য, দর্শকদের সবচেয়ে বাস্তব ও নিমগ্ন সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়া। সব মিলিয়ে চলতি বছরের সবচেয়ে আলোচিত ও বহুপ্রতীক্ষিত সিনেমাগুলোর একটি হতে যাচ্ছে ‘দ্য ওডিসি’।