তরুণ অভিনেতা ও চিত্রগ্রাহক নাঈম তুষার বর্তমানে ‘এক ঋতুর অনন্তকাল’ শিরোনামের একটি নতুন সিনেমায় কাজ করছেন। যুবরাজ শামীমের পরিচালনায় নির্মিতব্য এই ছবির মাধ্যমেই তিনি আবারও ক্যামেরার পেছনে সময় দিচ্ছেন। অভিনয় তাঁকে জীবন দিলেও ক্যামেরার সঙ্গেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে নাঈমের জীবনের গল্প শুনলে বোঝা যায়, শিল্পমাধ্যম কেবল পেশা নয়, বরং বেঁচে থাকার শক্তিও জুগিয়েছে।
কিছু বছর আগে পর্যন্ত তাঁর জীবন ছিল তীব্র মানসিক অস্থিরতায় ভরা। পারিবারিক জটিলতা, ব্যক্তিগত ঘটনা ও অর্থনৈতিক সংকট—সব মিলিয়ে তিনি বিষণ্ণতায় ডুবে যান। দুবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। প্রথমবার ২০০০ সালের দিকে মাদকাসক্তিতে জড়িয়ে পড়ার পর। টানা ছয় বছর সেই নেশা চলেছিল। তখন বেঁচে থাকার কোনো অর্থ খুঁজে পাননি। কিন্তু একসময় ঘুরে দাঁড়ান। মাদকমুক্ত হয়ে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করেন এবং ফটোগ্রাফিকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। পাশাপাশি মাদকাসক্তদের জন্য ‘আমার হোম’ নামে একটি নিরাময় কেন্দ্র গড়ে তোলেন। সেখানে কাউন্সেলিং ও বিভিন্নভাবে সহায়তা দিয়ে অন্যদের দ্বিতীয় জীবন উপহার দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
দ্বিতীয়বার আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় আসে করোনা মহামারির সময়। ২০২২ সালে জীবন এলোমেলো হয়ে যায়। সেই সময়ে পরিচালক যুবরাজ শামীমের সঙ্গে দেখা হয়। শামীম তখন নিজেও বাবার মৃত্যু ও অন্যান্য সমস্যায় বিষণ্ণতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। দুজনের অনুভূতি প্রকাশের জন্যই ‘অতল’ সিনেমার পরিকল্পনা। শামীমের একটি স্কুটি নিয়ে গাজীপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে শুটিং করেন তারা। যেখানে লোকেশন পছন্দ হয়, সেখানেই ক্যামেরা বসে। নাঈম বলেন, ‘খারাপ সময়কে জয় করতে ফ্রেম বেছে নিই। সেই সময়ের অনুভূতি ফ্রেমে ফুটিয়ে তুলি। একসময় গল্পের মধ্যে ডুবে যাই। সৃজনশীল এই কাজ আমাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনে। শিল্পমাধ্যম যেকোনো কিছু থেকে মুক্তি দিতে পারে—এই উপলব্ধি হয়।’
‘অতল’ সিনেমাটি ৪৮তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হয়েছে। নাঈম এই সিনেমার প্রধান অভিনেতা। তাঁর ভাষ্য, ‘হঠাৎ এই সিনেমার শুটিংয়ে যুক্ত না হলে হয়তো জীবনটা ভিন্ন পথে চলে যেত। আমাকে আত্মহত্যা থেকে বাঁচিয়েছে “অতল”। এটি আমাকে জীবনের নতুন অর্থ দিয়েছে।’
এখন নাঈম মনে করেন, জীবন একটাই এবং তা এক আধ্যাত্মিক যাত্রা। চ্যালেঞ্জ আসবেই, কিন্তু ঘুরে দাঁড়ানোই মূল কথা। কারও জন্য কিছু করাকেই তিনি বেঁচে থাকার নাম হিসেবে দেখেন। তাঁর আগের সিদ্ধান্তগুলো ভুল ছিল বলে এখন স্বীকার করেন।

