আশিয়ান গ্রুপের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরীর (ইসরাত জাহান) আনা নির্যাতনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (মিডিয়া ও কমিউনিকেশনস) সৈয়দ শফিকুল ইসলামের দেওয়া লিখিত বিবৃতিতে দাবি করা হয়, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন থাকায় তারা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ পাবে বলে আশা রাখে। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের জন্য সব পক্ষের বক্তব্য যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
অন্যদিকে, স্নিগ্ধা চৌধুরী গত রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঢাকার খিলক্ষেত থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান, গত শুক্রবার চিত্রের চুক্তির কথা বলে তাঁকে খিলক্ষেতের আশিয়ান মেডিকেল কলেজ কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছালে অন্য এক নারী ভেবে তাঁকে মারধর শুরু হয়। তাঁর ভাষ্যমতে, নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া একপর্যায়ে তাঁর দিকে শটগান তাক করেন, হাত-পা বেঁধে গলা টিপে ধরেন এবং কাঠের লাঠি দিয়ে শরীরের নানা অংশে আঘাত করেন। এ সময় চুল ধরে টানাহেঁচড়াও করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার কারণ জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া তাঁকে ‘জেবা টাকিয়া’ ভেবে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তোলেন বলে জানিয়েছেন স্নিগ্ধা। তিনি নিজেকে জেবা টাকিয়া নন বলে জানালেও তা বিশ্বাস করা হয়নি। অভিযোগে আরও বলা হয়, তাঁর মুখ চেপে ধরে জোর করে নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করানো হয়। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি অন্য কক্ষে গেলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কৌশলে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন বলে দাবি করেন তিনি।
আজ বিকেলে বনানীর বাসায় সাংবাদিকদের ডেকে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন স্নিগ্ধা চৌধুরী। তিনি নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিচার দাবি করে বলেন, বিচার না পেলে তিনি আত্মহত্যা করবেন এবং আত্মহত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের নাম লিখে রেখে যাবেন। তাঁর প্রশ্ন, ‘আমার সম্মান কি ফিরিয়ে দেবে রাষ্ট্র?’
উল্লেখ্য, আশিয়ান গ্রুপের পক্ষ থেকে বিচারাধীন বিষয়ে একতরফা অভিযোগ প্রচার জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে মর্মে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছে।




