জনপ্রিয় জম্বি ধারাবাহিক ‘দ্য ওয়াকিং ডেড’-এর স্পিন-অফ ‘দ্য ওয়াকিং ডেড: ডিডিটি’ তার তৃতীয় সিজন নিয়ে ফিরলেও এক সমালোচকের কাছ থেকে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। সমালোচক এরিক কেইন তার পর্যালোচনায় নতুন সিজনটির প্রিমিয়ারকে ‘একই পুরোনো, নির্বোধ, বিরক্তিকর এবং নিতান্তই মামুলি বাজে কাজ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে রটেন টমেটোসে সিজনটির স্কোর ১০০% থাকলেও তা মাত্র পাঁচজন সমালোচকের পর্যালোচনার ভিত্তিতে তৈরি।

তিনি রসাত্মক মন্তব্য করে বলেন, ‘একটি অসাধারণ নতুন ওয়াকিং ডেড অনুষ্ঠানের চেয়ে বেশি আমি আর কিছু চাই না, কিন্তু মনে হচ্ছে এই সিরিজটি এখনও অনেকটাই মৃত।’ তৃতীয় সিজনের বড় প্রতিশ্রুতি ছিল একটি অদ্ভুত ‘অল্টারনেট-হিস্ট্রি’ পর্ব, যেখানে বেথ চরিত্রটির প্রত্যাবর্তন ঘটবে, এবং ম্যাগি ও নিগানের পুরনো দ্বন্দ্বের চূড়ান্ত অবসান ঘটবে। তবে প্রিমিয়ার পর্বের শুরুতে নিগানের কান্না ও অভিযোগ এবং ম্যাগির বারবার ক্ষমা চাওয়ার দৃশ্য সমালোচকের কাছে কৃত্রিম ও অসহ্য মনে হয়েছে।

তিনি লেখেন, “মনে হচ্ছিল নিগান যেন ম্যাগিকে দোষারোপ করছে যে সে তাকে ছুরিকাঘাত করে তার জীবন নষ্ট করেছে। অথচ সে ভুলে গেছে, নিগানই গ্লেনকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করেছিল।” দুজনের মধ্যকার এই নাটকীয় মুহূর্তে হঠাৎ দুই নতুন চরিত্র, রেনাটা ও লুইসের আগমন ঘটে, যারা একটি শিশুর ইনকিউবেটরের জন্য প্রয়োজনীয় মিথেন গ্যাসের খোঁজে নিগান ও ম্যাগির সাহায্য চায়। এরপর গল্প জটিলতর হয়ে ওঠে, যেখানে পুরোনো শত্রু ‘ক্রোয়াট’ এবং হার্শেলের পুনরাবর্তনের মাধ্যমে প্রথম দুই সিজনের ঘটনা বাতিল করার মতো অবস্থা তৈরি হয়।

পর্যালোচনায় জিমি সিম্পসন অভিনীত নতুন চরিত্র ‘ডিলার্ড’ -এর বিচিত্র জম্বি-নির্ভর খাদ্য খামার বর্ণনার একটি উদ্ভট মুহূর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়। সমালোচকের মতে, পর্বটি যদি কৌতুকের দিকে ঝুঁকতো তবে এটি মজার হতে পারত, কিন্তু তা না হয়ে একটি অদ্ভুত ব্যতিক্রমী দৃশ্য হিসেবে দাঁড়িয়ে যায়। পুরো পর্বের শেষ দিকে গিয়ে ম্যাগি নিগানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায় এবং নিগানের ভাষ্যমত, সে তাকে প্রথমবারের মতো হাসতে দেখে। সমালোচক তার বিমর্ষতা প্রকাশ করে বলেন, এই দৃশ্য দেখে তার বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে যে, ভবিষ্যতে এই দুই চরিত্রের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক দেখানো হতে পারে।

তিনি পুরনো ‘দ্য ওয়াকিং ডেড’-এর সেই সময়ের কথা স্মরণ করেন, যখন সিরিজটিতে সৃজনশীলতা ও ধরণ ছিল এবং দর্শকদের চমকে দেওয়ার মতো ক্ষমতা ছিল। বর্তমানে সেই সৃজনশীলতার পরিবর্তে দর্শক কেবল বিরক্তি ও হতাশা নিয়েই প্রস্থান করে। রটেন টমেটোসের পাঁচজন সমালোচক ইতিবাচক মত দিলেও, কেইন সেটাকে সমালোচকদের মধ্যকিতা গ্রহণ করার প্রবণতা হিসেবে উড়িয়ে দিয়ে প্রকৃত দর্শক প্রতিক্রিয়ার উপর জোর দিয়েছেন।