বিশ্বকাপ জয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই আড়ম্বরপূর্ণ মুহূর্তের দেখা মেলে, কিন্তু স্পেনের ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া সেদিন বেছে নিলেন ব্যতিক্রমী এক পথ। তিনি চকচকে বিশ্বকাপ ট্রফিটি কোনো মর্যাদাপূর্ণ ব্যাগে নয়, বহন করছিলেন একটি সাধারণ প্লাস্টিকের পলিথিনে ভরে। এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনদের মধ্যে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়। কেউ কৌতুক করে বলেন, একটি ব্র্যান্ডেড ব্যাগও কি জুটল না, আবার কেউ প্রশ্ন তোলেন, নাকি স্প্যানিশ অর্থনীতিরই এই হাল? তবে ঘটনার পেছনে লুকিয়ে ছিল এক অন্য রহস্য।
জানা যায়, ফাইনালের দিনটিতে খেলোয়াড়দের কেউই সঙ্গে নগদ টাকা রাখেননি। মাঠের বাইরে ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে কেনাকাটার কোনো সুযোগ না থাকায় একটি জুতসই ব্যাগ কেনার উপায় ছিল না। ফলে সকালে নাশতা আনতে গিয়ে যে দোকানদার একটি পলিথিন দিয়েছিলেন, কুকুরেয়া সেটিই যত্ন করে বেঞ্চের পাশে রেখে দিয়েছিলেন। সতীর্থদের জিজ্ঞাসায় তিনি রহস্যময় হাসি দিয়ে বলেেছিলেন, “কেন জানি মনে হচ্ছে, আজ এটা খুব কাজে লাগবে!” ম্যাচ শেষে তার এই দূরদর্শিতার প্রমাণ মেলে।
কিন্তু প্রতিবেদনটির বর্ণনা অনুযায়ী, মূল ঘটনার আড়ালে আরেকটি বাস্তব কারণ ছিল। ফাইনাল পরবর্তী সময়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা দেখে কুকুরেয়ার মাথায় নিরাপত্তার বিষয়টি আসে। তাঁর মূল ভাবনা ছিল, চকচকে অবস্থায় ট্রিটি যদি কারও নজর কাড়ে, তবে আবেগের বশে কেউ তা ছিনিয়ে নিতে পারে। কিন্তু একটি অগোছালো পলিথিনের মধ্যে রাখা ট্রটি সাধারণ বাজারের জিনিসপত্র বলে ভ্রম হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এটিকে আধুনিক এক নিরাপত্তা কৌশল হিসেবেই তিনি বিবেচনা করছিলেন। পাশাপাশি দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে বিশ্বাস্ট ট্রফির জন্য অপেক্ষারত ব্রাজিল সমর্থকদের প্রতিও তাঁর সতর্ক দৃষ্টি ছিল।
কুকুরেয়ার এই পরিকল্পনায় সবচেয়ে ভয়ের জায়গাটি ছিল বাংলাদেশ। প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি যদি ভুল করে ঢাকা বা চট্টগ্রামে নেমে পড়তেন, তবে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারত। আর্জেন্টিনার সমর্থকরা ট্রটিকে নিজেদের দাবি করে কুকুরেয়াকে খালি হাতে ফেরত পাঠাতে পারে, আবার ব্রাজিল সমর্থকরা তা ‘কমপ্লিটেড হেক্সা মিশন’-এর ফাঁকি হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে—এমন আশঙ্কা তাঁর ছিল। এরপর সেটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তুমুল বিতর্ক ও জার্সির প্রি-অর্ডার শুরু হয়ে যাওয়ার বিষয়টি মজারছলে কল্পনা করা হয়।
এ ঘটনাটির সত্যতা বুঝতে চট্টগ্রামের সিআরবির একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টানা হয়। ফাইনাল দেখার সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাস শুরু হলেও বিদ্যুৎ ফিরে দেখা যায় বাস্তবে স্পেন ১-০ গোলে জিতেছে। গুজবের এই দ্রুত বিস্তারই প্রমাণ করে যে, একটি সাধারণ পলিথিনের চেয়েও ভয়ংকর কিছু আছে ফুটবল সমর্থকদের কল্পনাশক্তি। পৃথিবীর সবচেয়ে দামি ট্রফিটিকে সেই কারণেই সাধারণ এক টুকরো পলিথিনে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন মার্ক কুকুরেয়া।




