বাংলাদেশের বাজারে প্রচলিত দাঁতের পেস্টে ব্যবহৃত অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা (মাইক্রোপ্লাস্টিক) মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য কতটুকু ক্ষতিকর বা সহনীয়, তা নির্ধারণে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে এ বিষয়ে একটি রুল জারি করা হয়েছে।
আদালত স্বাস্থ্যসচিব ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) মহাপরিচালককে কমিটি গঠন করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কমিটিতে বিএসটিআই, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে গত সোমবার (২৭ জুলাই) দুটি জাতীয় দৈনিকে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদন ও এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত অন্যান্য খবরের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন সোমবারই একটি রিট দায়ের করেন। মঙ্গলবার রিটটি আদালতের কার্যতালিকায় শুনানির জন্য ওঠে।
রিটের পক্ষে নিজেই শুনানি করেন আইনজীবী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফারুক হোসেন। পরবর্তী শুনানির জন্য ২৮ আগস্ট দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
আইনজীবী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গঠিত কমিটি তদন্ত করে দেখবে—বাজারে প্রচলিত টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির মাত্রা কত, তা মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য কতটুকু ক্ষতিকর কিংবা কতটুকু সহনীয়। একইসঙ্গে টুথপেস্টের ক্ষেত্রে জাতীয় মানদণ্ড ও নির্ধারিত শর্ত নিশ্চিতে ব্যর্থতা কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত। এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে পরিবেশসচিব, স্বাস্থ্যসচিব, শিল্পসচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের।
উল্লেখ্য, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এক প্রতিবেদনে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়ার তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর এই বিষয়টি গণমাধ্যমে আলোচিত হয়।



