কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় জুলাই মাসের বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। এতে প্রায় দুই হাজার বসতঘর আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে ২৫১টি আধা-পাকা ঘর এবং ৫০০টি কাঁচাঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে, অপর ১ হাজার ২৪৯টি কাঁচাঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাউসার আহমেদ। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সরকারি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

পানি নেমে যাওয়ার পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। পূর্ব বিলাচূড়া, ছিরাদিয়া, মইয়াদিয়া, গোঁয়াখালী, বাংলাপাড়া, বাইম্যাখালী, হরিণাফাঁড়ি ও বটতলীয়াপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার হাজারো পরিবার এখনো কাদা ও পলির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। গত সোমবার দুপুরে পূর্ব বিলাচূড়া এলাকায় দেখা যায়, ১৮ মাস বয়সী যমজ দুই ভাই-বোন মাটিতে বসে খেলছে, আর তাদের মা রোকসানা বেগম মেঝেতে নতুন করে কাদা লেপে ঘর বাসযোগ্য করার চেষ্টা করছেন। চোখের পানি মুছতে মুছতে তিনি জানান, তার স্বামী অসুস্থ, তেমন আয়-রোজগার নেই। অনেক কষ্টে বেড়ার ঘরটি বানিয়েছিলেন, বন্যায় সেটাও ধ্বংস হয়েছে। কাদার মধ্যে থাকায় বাচ্চা দুটির জ্বর-সর্দি লেগেই আছে। উপজেলায় অন্তত ৫০০টি পরিবারের একই অবস্থা বলে জানা গেছে।

মইয়াদিয়া গ্রামের আজবাহার বেগমের কাহিনিও একই রকম। অসুস্থ স্বামী ও চার মেয়েকে নিয়ে তার সংসার। ধারদেনা করে এক মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন, সেই ঋণ এখনো শোধ করছেন। তার মা-বাবা দয়া করে যে ঘরটি বেঁধে দিয়েছিলেন, বন্যার পানি তা কেড়ে নিয়েছে। তিনি এখন একেবারে নিঃস্ব। তার স্বামী জসিম উদ্দিন দীর্ঘদিনের অসুস্থ, ভাঙা বারান্দার ওপর বাঁশের খুঁটি দিয়ে বানানো অস্থায়ী মাচায় শুয়ে আছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, পানিতে আসবাবপত্র ও মেয়েদের বই-খাতা নষ্ট হওয়ায় কেউই এখন বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না।

পৌরসভার সীমানা সম্প্রসারণের ফলে বিলাচূড়াসহ কয়েকটি এলাকা সম্প্রতি পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সাবেক ইউনিয়ন সদস্য মোহাম্মদ মানিক জানান, বিলাচূড়া, ছিরাদিয়া ও মইয়াদিয়া এলাকায় অন্তত ৩৬৫টি বসতঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনো অনেক পরিবার ভাঙা ঘর বাসযোগ্য করার সংগ্রাম করছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাউসার আহমেদের ভাষ্য, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। সরকারি সহায়তা পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।