সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাভারে জঙ্গি হামলার দাবিতে একটি ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে রাতের অন্ধকারে আগুন ও ঘন ধোঁয়ার মধ্যে নারী-পুরুষদের নিরাপদ স্থানে ছুটতে দেখা যায়। শ্বাসকষ্টে অনেকেই কাশছেন, অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন শোনা যাচ্ছে এবং মুঠোফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে স্বজনদের খুঁজছেন কয়েকজন। কেউ কেউ স্বজনকে না পেয়ে বিলাপ করছেন, আবার কেউ স্বজনকে ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। ভিডিওটি ধারণকারী ব্যক্তি বলছেন, ধোঁয়ার কারণে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকাও কঠিন হয়ে পড়েছে এবং তিনি আরও জানান, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (সিসিইউ) ভেতরে একজন রোগীর স্বামী আটকা পড়েছেন। ‘এই মুহূর্তে সাভারে জঙ্গি হামলা হচ্ছে। মানুষ জীবন বাঁচাতে এদিক-সেদিক দৌড়াচ্ছে। আমার বাংলাদেশ পাকিস্তানের মতো জঙ্গিদের হাতে চলে গেছে’—এমন ক্যাপশনে ভিডিওটি সোমবার মধ্যরাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। তবে যাচাইয়ের মাধ্যমে দেখা যায়, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি। ভিডিওটির কি-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ১২ জুন খুলনা সিটি নামের একটি ফেসবুক পেজে একই ভিডিও পাওয়া যায়। ওই পেজের তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওটি খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ১১ জুন অগ্নিকাণ্ডের সময় ধারণ করা হয়েছিল। ওই দিন রাত পৌনে ১০টার দিকে নগরের ময়লাপোতা মোড় এলাকায় অবস্থিত ১৭ তলা হাসপাতাল ভবনের নিচতলায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় রাত পৌনে ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। একাধিক সংবাদমাধ্যম ওই ঘটনার প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এছাড়া, গত রাতে সাভারে কোনো জঙ্গি হামলার খবর কোনো সংবাদমাধ্যমে পাওয়া যায়নি। প্রথম আলোর সাভার প্রতিনিধি থানা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেও এমন কোনো ঘটনার তথ্য পাননি। একই রাতে ৯ সেকেন্ডের আরেকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে যাতে দাবি করা হয়, ‘সাভারে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণ ও জঙ্গি হামলায় অনেক মানুষ হতাহত।’ ভিডিওটিতে রাতে একটি স্থানে আগুন জ্বলছে এবং ধারাবাহিকভাবে বড় বড় বিস্ফোরণ ঘটছে, যা দেখতে আশপাশে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছেন। যাচাই করে দেখা যায়, এটি ২০২৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তালতলা মার্কেটসংলগ্ন একটি স মিলে অগ্নিকাণ্ডের সময় ধারণ করা হয়েছিল। ওই অগ্নিকাণ্ডে একের পর এক গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের দৃশ্যই ভিডিওটিতে ধরা পড়ে। সময় টিভির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ভিডিওটি পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় আগুন পরে পাশের আরেকটি স মিল ও প্রায় ২০টি দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। সুতরাং, সাভারে জঙ্গি হামলা ও বোমা বিস্ফোরণের দাবিতে ছড়িয়ে পড়া দুটি ভিডিওই পুরোনো এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘটনার।