কিশোরগঞ্জের ভৈরবে এক স্কুলশিক্ষিকার ওপর চালানো নৃশংস হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আইনি প্রক্রিয়া থেকে রেহাই দিতে একটি পক্ষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকার পরিবার ও সহকর্মীরা। তারা বলছেন, এই অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে মূল অভিযুক্ত প্রিয়া বেগমকে (২৫) নির্দোষ প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যে। রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে ভৈরব প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবার ও তাঁর কর্মস্থলের শিক্ষকদের উপস্থিতিতে এই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা সিঁথি সীমিতার (২৮) ভাগনে অন্তর আহমেদ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। বক্তব্যে দাবি করা হয়, সিঁথির ওপর চালানো হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। অভিযোগ, ঘটনার দিন শিক্ষিকার হাত, গলা ও আঙুলে থাকা স্বর্ণালংকার লুটের অভিপ্রায়েই তাঁকে কোপানো হয়। প্রাণে মারার চেষ্টায় মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ১৬টি কোপ দেওয়া হয়, যার মধ্যে কেবল মাথাতেই ১০টি কোপের আঘাত লাগে। নিহ্নংস এই আক্রমণে তার দুই হাতের ছয়টি আঙুল থেঁতলে যায় এবং একটির অর্ধেকাংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সিঁথি সীমিতা শঙ্কামুক্ত না হলেও কথা বলার মতো অবস্থায় আছেন। পরিবারকে তিনি জানিয়েছেন, অলংকার লুটের জন্যই প্রিয়া এই কান্ড ঘটিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ আনা হয় যে, ঘটনার পর থেকেই একটি মহল প্রিয়া বেগমকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ হিসেবে প্রতিপন্ন করতে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমেও অপরাধীকে আড়াল করার এই তৎপরতা চলছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সংবাদ সম্মেলন থেকে হামলাকারী প্রিয়া ও তাকে প্ররোচনাদাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানানো হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিঁথির কর্মস্থল বিএম এ স্কুল-২-এর অধ্যক্ষ খন্দকার রফিকুল আমীন, তার শ্বশুর শিশু মিয়া, দেবর মো. তানভীর এবং ইকরা মডেল একাডেমির অধ্যক্ষ মো. মামুন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র থেকে জানা গেছে, ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাুল্লাহরচর গ্রামের বাসিন্দা সিঁথি সীমিতা একই এলাকার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে পড়াতেন। গত তিন মাস যাবৎ তিনি ওই গ্রামের খাবার হোটেল ব্যাবসায়ী বায়েজিদ মিয়ার পুত্রকে গৃহশিক্ষকতা দিচ্ছিলেন। ১৩ জুলাই পড়ানোর একপর্যায়ে বায়েজিদের স্ত্রী প্রিয়া বেগম পেছন থেকে তাঁর উপর দা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। শিক্ষিকা কোনোক্রমে ঘর থেকে বের হতে চাইলে প্রিয়া দরজার ছিটকিনি আটকে দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করে। সিজানের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এলাকাবাসীই প্রিয়াকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। চিকিৎসকরা জানান, সিঁথির মাথার ১০টি কোপের চিকিৎসায় প্রয়োজন হয়েছে ৫০টি সেলাই।

এই ঘটনায় সিঁথির শ্বশুর শিশু মিয়া বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত প্রিয়া বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কিশোরগঞ্জ কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও ভৈরব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল কবির জানিয়েছেন, তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে এবং শিগগিরই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।