ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার সোয়াইতপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে ঢাকার কমলাপুরে কর্মরত কাস্টমস সিপাহি রাকিব রায়হান তালুকদারের (৪০) খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের নয় দিন পর, রোববার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এনায়েতপুর ইউনিয়নে এই অভিযান চালায় পুলিশ। তিনটি ভিন্ন ব্যাগ ও একটি বিছানার চাদরের ভেতর থেকে ১৫ টুকরা মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনার তদন্তে নিহতের বাড়ির দেখভালকারী রাজু মির্জাকে সন্দেহের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, যিনি গত ২৮ জুলাই থেকে আত্মগোপনে আছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাকিব রায়হানের বৈবাহিক বিচ্ছেদ ঘটে কয়েক বছর আগে। তিনি প্রতি সপ্তাহের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে আসতেন এবং শনিবার কর্মস্থলে ফিরে যেতেন। গত ২৩ জুলাই বাড়িতে এসে রাতে বড় ভাই নূরুল ইসলামের সাথে কথা বলার পর, ২৪ জুলাই বিকেল থেকে তিনি আর কারও সাথে যোগাযোগ করছিলেন না। পরিবারের প্রাথমিক ধারণা ছিল তিনি হয়তো ঢাকায় ফিরে গেছেন। কিন্তু ২৬ জুলাই যখন তিনি কমলাপুরে কর্মস্থলে যোগদান করলেন না এবং তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া গেল, তখনই আসলে তার নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত হন স্বজনরা। এরপর ২৭ জুলাই রাতে বড় ভাই ফুলবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, জিডি দায়েরের পরের দিন অর্থাৎ ২৮ জুলাই থেকেই বাড়িটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা কেয়ারটেকার রাজু মির্জাও নিখোঁজ হন, যিনি একই গ্রামের বাসিন্দা। রোববার সকাল থেকে পুলিশ এলাকার বিভিন্ন বাগান ও সন্দেহজনক স্থানে তল্লাশি কার্যক্রম চালাতে থাকে। এক পর্যায়ে রাকিবের বাড়ি থেকে আনুমানিক ৩০০ গজ দূরের একটি পুকুরে সন্দেহভাজন কয়েকটি ব্যাগ নজরে আসে। সেগুলো উদ্ধারের পর ভেতরে মানুষের দেহের খণ্ডিত অংশ দেখতে পাওয়া যায়। ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদুল হাসান প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, হত্যার পর রাকিবের মরদেহ ১৫ টুকরা করে তিনটি ভ্রমণ ও স্কুলব্যাগ এবং একটি বিছানার চাদরে ভরে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনার পর থেকে রাজু মির্জার আত্মগোপনে থাকার বিষয়টি তাকেই প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে। তবে এখনও পর্যন্ত হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ, এই নির্মম ঘটনায় মোট কতজন জড়িত এবং তাদের পূর্ণ পরিচয় নিশ্চিত হতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক তদন্ত অব্যাহত থাকার কথা জানানো হয়েছে।




