রাজধানীর বি.বাসু লেন এলাকার একটি সেতুর নিকট থেকে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে এক তরুণের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে যে তথ্য সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক, তা হলো তার দেহে আঘাতের কোনও চিহ্ন পরিলক্ষিত হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত তরুণকে সর্বশেষ অজ্ঞাতপরিচয় এক তরুণীর সাথে দেখা গিয়েছিল। ঘটনার পর থেকে সেই তরুণী নিখোঁজ রয়েছেন, যা মৃত্যুর রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে।

মরদেহের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর তদন্তকারীরা তার হাতে দু’টি নখের আঁচড়ের উপস্থিতি শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। এটি মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তে এক ধরনের সংগ্রামের ইঙ্গিত বহন করে। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর আবিষ্কারটি আসে নিহতের জামার পকেট তল্লাশি করতে গিয়ে। সেখান থেকে উদ্ধার হয় একটি ছোট্ট চিঠি, যেখানে লেখা ছিল মাত্র একটি লাইন— ‘quite sure i am he felt no pain...’। ইংরেজি কবিতার এ পঙক্তি তদন্তে সম্পূর্ণ নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে।

ঘটনাস্থলের এক টুকরো কল্পচিত্র এঁকে দেওয়া হয়েছে একটি নাগরিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে, যেখানে দুই তরুণ-তরুণীর মধ্যে নদীতীরে কাব্যিক এক কথোপকথনের বর্ণনা উঠে এসেছে। সেখানে রবার্ট ব্রাউনিংয়ের ‘পর্ফিরিয়াস লাভার’ কবিতার প্রসঙ্গ ওঠে, যে কবিতার বিষয়বস্তু ছিল প্রেমিকের হাতে প্রেমিকার মৃত্যু। কথোপকথনের শেষাংশে সেই সন্ধ্যার পূর্ণিমার চাঁদের উল্লেখ করা হয়। এই বৃত্তান্তের সাথে বাস্তবের হত্যাকাণ্ডের মিল দেখে তদন্তের গতিপথ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে তারা বাস্তব ঘটনা ও চিঠির কবিতার লাইনের মধ্যে যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে।

নিহত তরুণের পরিচয় এখনও নিশ্চিত না হলেও পুলিশ সূত্র বলছে, তার বয়স আনুমানিক কুড়ির কোঠায়। আপাতদৃষ্টিতে তার মৃত্যু প্রাকৃতিক নয়, বরং এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। যে তরুণীর সাথে তাকে শেষ দেখা গেছে, তাকে খুঁজে বের করাকেই বর্তমানে অগ্রাধিকার দিচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের একটি দল ইতিমধ্যেই আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ঘটনার বিস্তারিত জানতে পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে।