স্থানীয় লোকজন ও নিহিতের স্বজনেরা জানাতে পারেন, ফরিদ উদ্দিন এবং উত্তরপাড়া ও পূর্বপাড়ার তার দলবল দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়গিরি নিয়ে সওদাগরকান্দি গ্রামে ঢুকে পড়ে। কেবল মোমেন মিয়ার বাড়িতেই নয়, বরং একইসঙ্গে আরও কয়েকট্যা বাড়িতেও তারা ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটায়। এতে অন্তত ১০ জন বিভিন্ন ধরণের আঘাত প্রাপ্ত হন। আক্রান্তদের মধ্যে মোবারক (৬৫), নাজমুল হোসেন (৩০) ও রুহুল আমিন (৩৭) এই মুহূর্তেও রায়পুরো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা অধীন রয়েছেন। অন্যান্য আহতেরা বিভিন্ন মেডিক্যাল সুবিধায় ভরতি আছেন। যখন দুর্বৃত্তরো মোমেন মিয়াকে তার কক্ষের ভিতর একা পেয়ে গুলি করে পালায়, তখন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকা মোমেন মিয়াকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও কর্তব্যরত ডাক্তাররা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা দেয়। রায়পুরো উপারেলা স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা জান্নাতুল নাইম স্পষ্টীকৃত করেন, তার মাথায় ও পদ্যে গুলির স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন বিদ্যমান ছিল এবং তাকে ইতোমধ্যে মৃত অবস্থাতেই হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
ইউনিয়ন পরিদের চেয়ারম্যান মোমেন সাগর, যিনি নিহিতের চাচাতো ভাই, দাবি করেছেন, ফরিদ উদ্দিন আগে বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি পদে থাকাকালীন সময়ে অর্থনৈতিক দুর্নীতি ও নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়লে তাকে অপসারণ করা হয়। এরপর থেকেই তিনি জোরপূর্বক সহিংসতার মাধ্যমে ওই পদটি পুনরায় দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ তুলেছেন।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন ফরিদ উদ্দিন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, ‘আমি তো এখন নোয়াখালীতে আমার চাকুরির ব্যস্ত আছি। এখান থেকে গ্রাম্য একটা খুনের ঘটনায় কীভাবে জড়িত থাকা সম্ভব? তদন্ত করা ছাড়া কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া অচিত।’
ঘটনাটি নিহিতের পরিবার ও এলাকার মানুষের মাঝে তীব্র আতংক ও ক্ষোভ তৈরি করেছে। রায়াপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান মিডিয়াকে জানান, পুলিশি বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণাধীনে রয়েছে। নিহিতের মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের উদ্দেশে নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অপরাধীদের গ্রেপ্তারের জন্য একাধিক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে যে কোন অপ্রতিকার্য ঘটনা এড়াতে গ্রামটিতে বাড়তি পুলিশ নিয়োগ করা হয়েছে। ঘটনার মূল নাতৃরা বর্তমানে পলাতক আছে।




