সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) সম্প্রতি ম্যাচমেকার ব্লেইন অ্যান্ডারসনের একটি পোস্ট ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অ্যান্ডারসনের একজন পুরুষ ক্লায়েন্ট, যিনি পেশায় ফিন্যান্স বিশেষজ্ঞ এবং যার বয়স ৩২ বছর, তার প্রথম ডেটটি একটি সাধারণ প্রিটজেল রেস্তোরাঁয় নির্ধারণ করেছিলেন। তবে তাঁর পছন্দের সঙ্গী—২৬ বছর বয়সী এক নারী—সেই ডেটে যেতে অস্বীকৃতি জানান, কারণ তিনি আরও অভিজাত বা উচ্চমানের কোনো পরিবেশ আশা করেছিলেন। এই ঘটনাটি দ্রুত ভাইরাল হয় এবং ইন্টারনেটে দুই ধরনের মতাদর্শের সংঘাত শুরু হয়। কেউ কেউ ওই নারীকে অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী বলে সমালোচনা করেন, আবার কেউ মনে করেন পুরুষের রেস্তোরাঁ নির্বাচন ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের।
ব্লেইন অ্যান্ডারসন যে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তা মূলত আধুনিক ডেটিংয়ের জটিলতা ও প্রত্যাশার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তিনি কেবল পুরুষ ক্লায়েন্টদের পরিষেবা প্রদান করেন এবং ছয় মাসের জন্য ৩৫ হাজার থেকে ১ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ফি গ্রহণ করেন। এই ফির পরিমাণ নির্ধারিত হয় ওই ক্লায়েন্টের জন্য উপযুক্ত সঙ্গী খুঁজে পাওয়া কতটা সহজ বা কঠিন তার ওপর। উদাহরণস্বরূপ, সুদর্শন এবং দীর্ঘকায় কোনো পুরুষের জন্য তিনি কম ফি নিলেও, যাদের শারীরিক গঠন বা বৈশিষ্ট্য সাধারণ—যেমন যাদের চুল পাতলা বা উচ্চতা কম—তাদের জন্য তিনি বেশি ফি নেন। অ্যান্ডারসনের ভাষায়, একে তিনি 'বোল্ড ট্যাক্স' (Bald Tax) এবং 'শর্ট ট্যাক্স' (Short Tax) হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, এই ধরনের ক্লায়েন্টদের জন্য উপযুক্ত সঙ্গী খুঁজে পেতে তাঁর টিমকে অনেক বেশি সময় দিতে হয় এবং অনেক বেশি নারীর সাথে কথা বলতে হয়, যার ফলে খরচ বেড়ে যায়।
অ্যান্ডারসনের পাঁচ সদস্যের দল প্রতি ম্যাচের জন্য প্রায় ৫০ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় ব্যয় করে। তারা ইনস্টাগ্রাম, লিঙ্কডইন, পেশাদার নেটওয়ার্ক এবং বন্ধু মহলের মাধ্যমে নারী সঙ্গী খুঁজে বের করেন। এমনকি কঠিন ক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন ক্যাফে বা ক্লাবে সরাসরি গিয়ে সম্ভাব্য সঙ্গী খোঁজার কাজও করেন।
এই প্রিটজেল বিতর্ক বা 'প্রিটজেলগেট' নিয়ে অনেক সমালোচক অ্যান্ডারসনকে প্রতারক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে অ্যান্ডারসনের মতে, এই প্রত্যাখ্যানটিই প্রমাণ করে যে মানুষ আসলে কীসের জন্য অর্থ প্রদান করছে—তা হলো পছন্দ বা প্রেফারেন্সের মূল্য। তিনি মনে করেন, বর্তমান যুগে হাইপারগ্যামি (উচ্চ সামাজিক স্তরের সঙ্গী খোঁজা) এবং হেটেরোপেসিমিজম (বিপরীত লিঙ্গের সম্পর্কের প্রতি হতাশা) ডেটিং সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করছে।
পাশাপাশি, অ্যান্ডারসন এই ভাইরাল ঘটনাগুলোকে তাঁর ব্যবসার বিপণন কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেন। তিনি লক্ষ্য করেছেন যে, যখন কেউ প্রচলিত সামাজিক রীতিনীতি বা প্রত্যাশা ভঙ্গ করেন, তখন ইন্টারনেটে মানুষ দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায় এবং তা ভাইরাল হয়। তবে তিনি দাবি করেন, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে বিতর্ক সৃষ্টি করেন না, বরং বাস্তব জীবনের ডেটিংয়ের জটিলতাগুলো তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এই গল্পগুলো মানুষের কাছে পৌঁছালে তারা বুঝতে পারে যে ডেটিংয়ের লড়াইয়ে তারা একা নয়।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইন্টারনেটের এই আলোচনা অনেক সময় বাস্তব পছন্দের পরিবর্তন ঘটিয়ে দেয়। যেমন, সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘকায় পুরুষের প্রশংসা দেখে অনেক নারী বাস্তব জীবনেও উচ্চতাকে প্রাধান্য দিতে শুরু করেছেন। এমনকি উবার (Uber) পাঠিয়ে ডেটে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টিও এখন অনেক নারীর প্রত্যাশার তালিকায় যুক্ত হয়েছে, যা অ্যান্ডারসনের টিম এখন ক্লায়েন্ট যাচাইয়ের সময় গুরুত্ব দিয়ে দেখে। উল্লেখ্য, এই বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা ক্লায়েন্ট বিষয়টি সহজভাবে নিয়েছেন এবং অ্যান্ডারসনের দেওয়া তাঁর বর্ণনা 'মিডিয়াম হ্যান্ডসাম' (মাঝারি সুদর্শন) শুনে তিনি বেশ মজা পেয়েছেন।




