পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, গতকাল সন্ধ্যার পর ভুক্তভোগী সাখাওয়াত হোসেনকে হাসপাতালে আনা হলে তার কানে চারটি সেলাই দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, রোগীর অবস্থা এখন স্থিতিশীল এবং তারা তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। এদিকে, পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহেদ আল-মামুন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলেছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান। তবে এখনও লিখিত অভিযোগ দাখিল করেননি বলেও ওসি জানান।
ঘটনাটি ঘটে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল এলাকায়। ভুক্তভোগী সাখাওয়াত হোসেন (৪৮) পেশায় বালু ব্যবসায়ী। তার বাড়ি গাজীপুরের কালীগঞ্জে। সম্প্রতি তিনি ঘোড়াশালে টি কে গ্রুপের একটি নির্মাণাধীন স্থাপনায় বালু সরবরাহের জন্য শীতলক্ষ্যা নদীতে ড্রেজার বসিয়েছিলেন। গতকাল বিকেলে শ্রমিকদের বেতন দিয়ে ফেরার পথে বাংলাদেশ জুটমিলের সামনে দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন ব্যক্তি তার পথ রোধ করে। অভিযোগ, তারা তাকে জোর করে বিএনপি নেতা মহিউদ্দিন চিশতিয়ার বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রেখে মহিউদ্দিনসহ আরও ছয়-সাতজন তাকে চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারে। তার ভাষ্যমতে, একপর্যায়ে মহিউদ্দিন তার গলা টিপে ধরে ডান কানে কামড় বসিয়ে দেন। এতে কান কেটে যায় এবং প্রচুর রক্তপাত হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় কান চেপে ধরলে তাকে ড্রেজার সরিয়ে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দেয়া হয়। পরে তিনি ড্রেজার সরানোর প্রতিশ্রুতি দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তিনি হাসপাতালে যান এবং চিকিৎসা নেন। চিকিৎসকরা কানে সেলাই দিয়ে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখেন।
অভিযুক্ত মহিউদ্দিন চিশতিয়া ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয় বলে এলাকায় কথিত আছে। তবে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে জানান, তিনি ড. আবদুল মঈন খানের একটি অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন এবং পরে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিস্তারিত জানাবেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলেই তদন্ত শুরু হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



