জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা ২০২৬’ কর্মসূচি হবিগঞ্জে গিয়ে পুলিশি প্রতিবন্ধকতা ও সহিংসতার মুখে পড়েছে। গত মঙ্গলবার এনসিপির দুই কেন্দ্রীয় নেতার গাড়িবহর লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া হয় এবং একজন নেতাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এর প্রতিবাদে বুধবারের বিক্ষোভ কর্মসূচি কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। শহরে সমাবেশ করতে গিয়ে এনসিপির নেতা-কর্মীরা পুলিশের বাধার সম্মুখীন হন।
বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জের পথে রওনা দেন এনসিপির নেতারা। সোয়া পাঁচটায় বাহুবলে পৌঁছালে তাঁরা আবার পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। দলের আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সড়কে অবস্থান নেন। পুলিশের সঙ্গে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তর্ক-বিতর্ক চলে। শেষে রাত নয়টার দিকে তাঁরা ওই এলাকা ত্যাগ করেন। তবে রাত আটটায় কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে মঙ্গলবারের হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা।
মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটায় হবিগঞ্জ টাউন হলের সামনে এনসিপির পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে নাসীরুদ্দীনের গাড়িবহর সার্কিট হাউসের দিকে যাওয়ার সময় স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় তাঁর গাড়ির দিকে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। চালক দ্রুত গাড়ি সরিয়ে নিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর পেছনে থাকা সারজিসের গাড়িকেও ধাওয়া করে ইট নিক্ষেপ করা হয়। তিনি সোনালী ব্যাংক ভবনে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ওই ভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে পুলিশ সারজিসকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সংগঠক আলিফ চৌধুরী গুরুতর আহত হন। তাঁর চোখে রড দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ এনসিপির। তাকে ঢাকায় জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন জানান, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন আলিফের বাঁ চোখে রক্ত জমাট বেঁধেছে এবং তরল বেরিয়ে গেছে। আজ সকালে তাঁর অস্ত্রোপচার হবে। ডান চোখেও ঝাপসা দেখছেন তিনি।
প্রতিবাদে বুধবার বেলা তিনটায় হবিগঞ্জ পৌর শহরে সমাবেশের ডাক দিয়েছিল এনসিপি। পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। এনসিপির নেতারা সমাবেশস্থলের দিকে রওনা দিলে বিকেল চারটায় শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও এলাকায় পুলিশ তাদের গাড়িবহর আটকে দেয়। এ সময় নাহিদ ইসলাম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ ও মাহমুদা মিতু উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘যারা হুমকি দিচ্ছে তাদের না ধরে আমাদের রাস্তা আটকাচ্ছেন? হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা দিয়ে শ্রীমঙ্গলের রাস্তা আটকানো বেআইনি।’ পুলিশ জানায়, সীমানা পার হলে বড় ক্ষতি হতে পারে। হাসনাত জবাব দেন, ‘নিরাপত্তা দিতে পারেন তাহলে দিন, না পারলে আমরা নিজেরা দায়িত্ব নিয়ে যাব।’ সারজিস আলম বলেন, ‘বিএনপি সরকার আবার আওয়ামী লীগের মতো প্রশাসন ব্যবহার করছে। ১৪৪ ধারার কাছেও যাইনি, তবু আটকানো হচ্ছে।’ ঘণ্টাখানেক পর ব্যারিকেড ভেঙে নেতারা হবিগঞ্জের দিকে রওনা হন।
বুধবার সন্ধ্যায় বাহুবলের কামাইছড়া এলাকায় আবার পুলিশি বাধার মুখে পড়ে বহরটি। সড়কে বাস আড়াআড়িভাবে রাখা হয়। বৃষ্টির মধ্যেই নেতারা রাস্তায় অবস্থান নেন এবং ‘বাহ্ পুলিশ চমৎকার, স্বৈরাচারের তাঁবেদার’ স্লোগান দেন। বাসের সামনে দুই শতাধিক পুলিশ ও এসপিবিএন সদস্য সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। পরে রাত নয়টায় কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের করেন নেতারা।
এনসিপির জুলাই পদযাত্রা ৬ জুলাই গাজীপুরের কালীগঞ্জে শুরু হয়। এর আগে মেহেরপুরে নেতাদের ছবিসংবলিত কুশপুত্তলিকা ও বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার হয়। সাভারে ককটেল বিস্ফোরণে চারজন আহত হন, যার অভিযোগ এনসিপি প্রশাসনের বিরুদ্ধে করে। পুলিশ সেখানে যুবলীগের দুইজনকে গ্রেপ্তার করে।



