স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিদ্যমান সুযোগ বহাল রাখাসহ কয়েকটি দাবি নিয়ে বুধবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠকে বসবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি ইসির সাথে কথা বলবে। দলে আরও উপস্থিত থাকবেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জসিম উদ্দীন সরকার ও শিশির মোহাম্মদ মনির।
বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা চাকরি ছাড়ার মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। কিন্তু সম্প্রতি ইসি এই সুযোগটি বাতিলের সুপারিশ করেছে, যা সংবিধানে উল্লিখিত নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে বলে মনে করে জামায়াত। দলটির প্রচার সম্পাদক জুবায়ের পূর্ব দিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনী যোগ্যতা নিয়ে ইসির প্রস্তাব এবং সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আলমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মতো বিষয়গুলোতে তারা তাদের অবস্থান কমিশনের সামনে তুলে ধরবে।
ইসির সুপারিশের তীব্র বিরোধিতা করে জামায়াত নেতৃত্বরা দাবি করেছেন, এই উদ্যোগের পেছনে ‘দুরভিসন্ধি’ কাজ করতে পারে। সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর আসহান আযাদ জানান, শিক্ষকরা ইতোমধ্যে চাকরি ছেড়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন, কিন্তু ইসির প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের সম্মুখীন হবে এবং এর নেপথ্যে সরকারের প্রভাব থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি কোনো পদক্ষেপ অবৈধ হবে এবং সেক্ষেত্রে তারা আইনি পথে লড়াই করতেও প্রস্তুত। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, দল এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে।
অপর একটি বিতর্কিত বিষয় হলো নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অবসরপ্রাপ্ত মো. সায়মুল আলমের এক বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। জামায়াতের অভিযোগ, ‘চিহ্নিত দলীয় ব্যক্তি’ হিসেবে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে সরকার নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের আজ্ঞাবহ বানাতে চায়। ফলে এই নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করার জন্য ইসির চাপ দেবে জামায়াত প্রতিনিধিদল।
প্রসঙ্গত, গত ২১ জুলাই ইসির এক সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অযোগ্য করার সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়। সেই সভায়ই সংসদ নির্বাচনের আদলে স্থানীয় নির্বাচনেও সেনাবাহিনী মোতায়েনের আইনি সুযোগ রেখে আরও কিছু সুপারিশ অনুমোদন পায়। এখন এসব প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবে ইসি। সরকার যদি সুপারিশগুলো আমলে নেয়, তাহলে আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা মন্ত্রিসভার অনুমোদন ও জাতীয় সংসদে বিল পাশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হতে পারে।




