কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থানায় একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী, যার বয়স মাত্র এগারো বছর, তার পিতা থানায় লিখিতভাবে এই অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জজ মিয়া (৫৫)। তিনি উপজেলার একটি ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অভিযোগটি গ্রহণ করে ইতোমধ্যে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে বর্ণিত ঘটনা অনুসারে, গত বৃহস্পতিবার সকালের দিকে শিশুটি তার বাড়ির পাশের জমিতে লাকড়ি শুকানোর কাজে গিয়েছিল। সেই সময় অভিযুক্ত জজ মিয়া তার মুখে গামছা পেঁচিয়ে পাশের জঙ্গলে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। শিশুটির আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেন।

তবে ঘটনার পর গ্রামের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তাঁরা শিশুটির পিতাকে পঞ্চাশ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলেন এবং অভিযুক্ত জজ মিয়াকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। শিশুটির পিতা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি এর আগেও এলাকায় একই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি আরও বলেন, পঞ্চাশ হাজার টাকার বিনিময়ে মামলা না করার জন্য তাদের ওপর নানাভাবে সামাজিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল। কিন্তু তিনি ওই প্রস্তাবে কোনোভাবেই রাজি হননি এবং ন্যায়বিচারের পথ বেছে নেন।

অভিযোগ দায়েরের পর অভিযুক্তের লোকজনেরা তাদেরকে হুমকি দিচ্ছে বলেও পিতা অভিযোগ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, জজ মিয়া আগেও এমন কাজ করেছে। টাকা নিয়ে চুপ থাকার চাপ সত্ত্বেও তিনি অটল রয়েছেন। বর্তমানে কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। শিশুটির শারীরিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।