অনেক দর্শকের স্বপ্ন, সিরিজ ‘মুসাফির ক্যাফে’র চন্দরের দোকানে গিয়ে বসবেন এক কাপ কফির কাপে চুমুক দেবেন। সম্প্রতি এই ভাবনার রেশ ধরে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা তুঙ্গে—কেউ এমন একটি ক্যাফে খোলার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন। তাদের জন্য সুখবর হলো, পর্দার এই রোমান্টিক ক্যাফেটি নিছকই কোনো সেট নয়; বাস্তবেই এর অস্তিত্ব রয়েছে, এবং এটি সবার জন্যই উন্মুক্ত।

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের পাহাড়ি শহর মুসৌরিতে ‘মুসাফির ক্যাফে’র শুটিং হয়েছিল। এর আসল নাম ‘ঝারিপানি ক্যাসল’। এটি কেবল একটি আহার-ভোজন সম্প্রদায় নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ পর্বতার বাসস্থান। যেখানে রাত্রিযাপনের সুযোগও রয়েছে। ২৪ জুলাই নেটফ্লিক্সে সিরিজটি মুক্তির পর পরই এই জায়গাটি অনলাইনে খোঁজার হিড়িক শুরু হয়েছে এবং গুগল সার্চের পরিমাণও লাফিয়ে বেড়েছে।

মুসৌরির দূন উপত্যকায় অবস্থিত এই পুরানো বাড়ির ইতিহাসও চমকপ্রদ। এটি ছিল ব্রিটিশ শাসনামলে সামরিক আধিকারিকদের জন্য একটি গেস্টহাউস। স্বাধীনতার পর এটি পাতিয়ালা রাজপরিবারের হাতে যায়, যারা গরমকালে পাহাড়ের ঠান্ডায় সময় কাটাতে এখানে আসতেন এবং তখন এটিকে ‘পাতিয়ালা হাউস’ বলা হত। মেঘ ও কুয়াশার মেলা দেখে তাঁরা অবসর কাটাতেন। এরপর বেশ কয়েকবার মালিকান বদল হয়ে বর্তমানে ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকা বাড়িটিকে একটি রিসোর্টে রূপান্তরিত করা হয়েছে, যেখানে পুরনো স্থাপনার অবিকল রূপ রাখা হয়েছে।

রিসোর্টটিতে থাকার খরচ ভিন্ন ভিন্ন। কক্ষ ভেদে ভাড়া সাড়ে ৪ হাজার রুপি থেকে শুরু করে ২৫ হাজার রুপি পর্যন্ত হতে পারে। রুমের সঙ্গে উপত্যকার দৃশ্য ও সুযোগ-সুবিধাও বদলে যাও। প্রতিটি কক্ষেই আছে ব্রিটিশ আমলের কাঠের কারুকাজ, কাচে ঘেরা দেওয়াল ও উন্মুক্ত ছাদ। রাজপরিবারের ব্যবহৃত পুরোনো অনেক সামগ্রী এখানে রক্ষিত আছে। ১৯ শতকের ভিক্টোরিয়ান পেইন্টিং ও মুসৌরির ঐতিহ্যবাহী ছবিও দেওয়ালে সাজানো। কাঠের মেঝের ওপরে পাতানো হয়েছে কাশ্মীরি গালিচা। শোয়ার ঘর থেকে উপদর্শনের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়, আর কিছু ঘরের ভেতরে আছে জাকুজি যেখানে বসে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

বাড়িটির চারপাশ ঘিরে রেখেছে বাহারি শোভাবর্ধক গাছ ও প্রাকৃতিক বৃক্ষরাজি। পাথরের সিঁড়ি ও পুরনো আমলের লোহার দরজা পর্যটকদের মনে স্মৃতিকাতরতা জাগায়। অনলাইনে ইতিমধ্যেই বুকিংয়ের হিড়িক পড়েছে এবং অনেকেই সেখানে ঘুরতে আসতে শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে শোনা যাচ্ছে, ‘মুসাফির ক্যাফে’র একটি দ্বিতীয় সিজন নির্মাণের পরিকল্পনাও চলছে। ভারতীয় ভিসা থাকলে ছুটির পরিকল্পনা করে ভাইরাল এই গন্তব্য থেকে ঘুরে আসার জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারে।