গানের মাধ্যমে হৃদয়ের আবেগ প্রকাশের এক অসাধারণ নজির স্থাপন করেছে সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ‘গুলবাহার’ শিরোনামের গানটি। মূলত সামাজিক মাধ্যমের কল্যাণে ইউটিউবে প্রকাশের দেড় মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর গানটি হঠাৎ করেই দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলতে শুরু করে। বর্তমানে এই গানের ভিউ ইউটিউবে ১১ মিলিয়নের গণ্ডি পেরিয়েছে।

২০২৫ সালের ১৭ মে ‘ঈশান এর গান’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে ‘গুলবাহার’ প্রকাশিত হয়েছিল। শিল্পী ঈশান মজুদার প্রথম আলোকে জানান, প্রকাশের প্রাথমিক ধাপে গানটি খুব দ্রুত না ছড়ালেও ঘনিষ্ঠজন এবং নিয়মিত শ্রোাতাদের কাছ থেকে অকুণ্ঠ প্রশংসা ও অনুপ্রেরণা পেয়েছেন তারা। দর্শকরাও গান ও ভিডিওতে ফুটিয়ে তোলা ভাবটিকে সঠিকভাবে ধরতে পেরে তাঁদের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন।

গত দুই মাস আগেও দর্শকরা ইউটিউবের মন্তব্যের ঘরে গানটিকে বিশেষ উপহার হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। একজন শ্রোতা জানিয়েছেন, তাঁর বিবাহবার্ষিকীর দিনে গানটি যেন একটি বাড়তি উপহার ছিল এবং তিনি ও তাঁর স্বামী দিনে কমপক্ষে দশবার করে এটি শোনেন। অনেকে গানের সুর ও কম্পোজিশনে বিভিন্ন ক্ল্যাসিক গানের ইঙ্গিত খুঁজে পেয়েছেন। যেমন এক শ্রোতার মতে, গানটির স্থায়ীতে পুরনো দিনের সুর ও জনপ্রিয় বাংলা গানের টিউনের মিশেল রয়েছে, যা অত্যন্ত সুন্দর শ্রুতিমাধুর্য তৈরি করেছে। শেষের হারমোনিয়াম অংশটিও আলাদা করে প্রশংসিত হয়।

ইউটিউবে প্রকাশের সময় এক ভক্ত মন্তব্য করেছিলেন, ‘গানটা যেদিন মিলিয়ন ভিউ হবে সেদিন আবার এসে শুনব।’ সেই প্রত্যাশা নিশ্চিতই পূরণ হয়েছে, কেননা গানটির দর্শকসংখ্যা এখন ১১ মিলিয়নের অধিক। দেড় মাস পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশেষ করে ফেসবুকের নিউজফিড, স্টোরি ও রিলসে গানটির অংশ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে শ্রোতাদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ জাগে। শিল্পী ঈশান মজুমদার এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গানটির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে এবং এর ফলে সব বয়সী শ্রোতার কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।

চরিত্রকেন্দ্রিক গানের ধারায় ‘গুলবাহার’ ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। গানে পুরান ঢাকার পটভূমি, সেখানকার পথ-ঘাট, পুরনো বাস, চায়ের দোকান ও সেলুনের দৃশ্যধারণ একে গতানুগতিক ধারা থেকে পৃথক করেছে। ‘গুলবাহার’ চরিত্রটি গানের ভিডিওতে দেখা না গেলেও দর্শকেরা নিজ কল্পনায় তাকে এঁকে নিতে পেরেছেন, যা গানটির মূল আবেদন। অনেকে তাকে কবি জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’-এর সঙ্গে তুলনা করে মন্তব্য করেন, ‘যার সরাসরি পরিচয় দেওয়া হয়নি, যে শ্রোতার কল্পনায় জন্ম নেওয়া এক স্বপ্ন-নারী।’

গানের কথায় ‘খরিদ্দার’, ‘নাস্তানাবুদ’, ‘ইনতেজার’, ‘মেহফিল’-এর মতো তুলনামূলক কম প্রচলিত শব্দের ব্যবহার এবং বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রসংগীতের সন্নিবেশ একে অনন্য মাত্রা দিয়েছে। একজন দর্শক অভিহিত করেন, এই গানে তিন প্রজন্মের মানুষ কোনো প্রকার অশ্লীলতা ছাড়া একত্রে উপভোগ করতে পারবেন। গল্প, সুর ও দৃশ্যের এই নিপুণ বুননটির মাধ্যমেই ‘গুলবাহার’ সাম্প্রতিককালের আলোচিত এক সাংস্কৃতিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।