রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুজন সেনের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ৫৪৮তম সভায় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ওই সভায় তাকে সহযোগী অধ্যাপক পদ থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে অবনমিত করা হয় এবং আগামী পাঁচ বছরের জন্য সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে পাঁচ বছর তিনি কোনো বেতন বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টও পাবেন না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ আজ সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পাঁচ বছর পর সুজন সেন সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মে যোগ দিতে পারবেন। এরপর আরও চার বছর অতিক্রান্ত হলে তিনি সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য আবেদন করতে সক্ষম হবেন। অর্থাৎ পদোন্নতির ক্ষেত্রে তাকে মোট নয় বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট, যখন বিভাগের শিক্ষার্থীরা পছন্দের শিক্ষার্থীকে সুবিধা প্রদান, অর্থ কেলেঙ্কারি, অযোগ্যতা ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে সুজন সেনকে বিভাগে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। এরপর ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ছাত্র উপদেষ্টা এবং বিভাগের সভাপতির কাছে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগের পরপরই ৯ সেপ্টেম্বর বিভাগের জরুরি একাডেমিক সভায় তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সুজন সেনকে বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে ১৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত শেষে কমিটি তার আচরণকে নৈতিক স্খলন হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিবেদন জমা দেয়।
এরপর সুজন সেনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সাবেক সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীনের নেতৃত্বে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই গত বৃহস্পতিবারের সিন্ডিকেট সভায় তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়।




