সরকার বুধবার ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ‘গুলি করি, মরে একটা, বাকিডি যায় না’ মন্তব্য করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়া ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পৃথক ছয়টি প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
চাকরিচ্যুত হওয়া অন্য কর্মকর্তারা হলেন—ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপকমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, সাবেক সহকারী কমিশনার মো. গোলাম রুহানী এবং কক্সবাজারের উখিয়ায় ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস।
প্রজ্ঞাপনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্টরা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী এই ধরনের অনুপস্থিতিকে ‘পলায়ন’ হিসেবে গণ্য করা হয়। কাজী আশরাফুল আজীম ও রাজন কুমার দাসের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণের’ অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। কর্মকর্তারা যেদিন থেকে অনুপস্থিত ছিলেন, সেদিন থেকেই তাদের চাকরিচ্যুতি কার্যকর করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বর্তমানে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তিনি ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নির্ধারিত সময়েও তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি। তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত করে ‘পলায়নের’ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানান। পরে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি জবাব না দেওয়ায় সরকারি কর্ম কমিশনের মতামত ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এর আগে গত বছরের ২৩ জুলাই একই অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে হতাহতের ঘটনা নিয়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সাথে কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিওতে ইকবাল হোসাইনকে বলতে শোনা যায়, ‘গুলি করে করে লাশ নামানো লাগছে স্যার। গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না। এইটা হলো স্যার সবচেয়ে বড় আতঙ্কের এবং দুশ্চিন্তার বিষয়।’ তবে প্রজ্ঞাপনে এই বক্তব্যকে চাকরিচ্যুতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।
অন্য পাঁচ কর্মকর্তার প্রসঙ্গে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কাজী আশরাফুল আজীম ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট বদলির আদেশের পর চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে যোগ না দিয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়নের’ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই দিন থেকেই তাকে বরখাস্ত করা হয়। বিপ্লব কুমার সরকার ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। সুদীপ কুমার চক্রবর্তী একাধিক নোটিশ পাওয়ার পরও ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট থেকে কর্মস্থলে ফেরেননি। রাজন কুমার দাস পাঁচ দিনের ছুটি শেষে ৩১ ডিসেম্বর কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় ওই দিন থেকে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। মো. গোলাম রুহানী ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট থেকে অনুপস্থিত থাকায় ওই দিন থেকে তার চাকরিচ্যুতি কার্যকর হয়।




