নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় নাউতরা নদীর ওপর নির্মিত নটাবাড়ি সাঁকোটি পরিদর্শনে গিয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়েন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জামায়াতের নেতারা। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ করেই সাঁকোটি ভেঙে পড়ে এবং সেখানে উপস্থিত ৮ থেকে ১০ জন নদীতে ছিটকে পড়েন। তবে ভাগ্যক্রমে সংসদ সদস্য আব্দুস সাত্তার সাঁকোর সামনের অংশে থাকায় তিনি এই দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নাউতরা এলাকার বাসিন্দারা নদীর ওপর একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সেই দাবির প্রেক্ষিতে নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সাত্তার জামায়াতের স্থানীয় নেতাদের সাথে নিয়ে ওই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোটি সরেজমিনে দেখতে যান। পরিদর্শনের সময়ই এ অঘটন ঘটে।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে একটি দল সাঁকো ধরে হাঁটতে শুরু করেন। ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, 'যাওয়া যাবে, সমস্যা হবে না।' কিন্তু কয়েক পা এগোনোর পরই সংসদ সদস্যের পেছনের অংশে সাঁকোটি ধসে পড়ে এবং সঙ্গে থাকা লোকজন নিচে পড়ে যান।

দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা জামায়াতের আমির মজিবুর রহমান, নায়েবে আমির কাজী হাবিবুর রহমান, সেক্রেটারি মো. রোকনুজ্জামান, সংসদ সদস্যের দেহরক্ষী আব্দুল মান্নান এবং ইউনিয়ন জামায়াতের আমির নূর মোবাশ্বের। তবে কারো শরীরে গুরুতর আঘাত লাগেনি বলে নিশ্চিত করেছেন মো. রোকনুজ্জামান।

উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জানান, স্থানীয় লোকজনের অনুরোধে সংসদ সদস্য তাদের নিয়ে সাঁকোটি দেখতে যান। হঠাৎ সাঁকোটি ভেঙে পড়লে তারা এবং কিছু স্থানীয় বাসিন্দা নদীতে পড়ে যান। তিনি আরও জানান, সৌভাগ্যক্রমে সংসদ সদস্য আব্দুস সাত্তার এই বিপদ থেকে অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসেন।

ঘটনার পর সংসদ সদস্যের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এই পরিদর্শন শেষে সেতু নির্মাণের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তা এখনও পরিষ্কার নয়।