দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। ব্যাপক গণটিকা কর্মসূচি শেষ হওয়ার প্রায় তিন মাস কেটে গেলেও সংক্রমণের গতি কমেনি; বরং প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ২৫ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং একই সময়ে মারা গেছে পাঁচ শিশু। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৮৮৫ জনে, আর মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৯৪ জনে পৌঁছেছে। গত দুই দশকে দেশে হামে এত প্রাণহানি ও রোগীর সংখ্যা আর দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, মূলত চারটি গুরুত্বপূর্ণ ভুলের কারণে পরিস্থিতি এতটা সংকটজনক হয়ে উঠেছে। প্রথমত, ২০২৪ সালে নির্ধারিত হাম-রুবেলা বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়নি। দ্বিতীয়ত, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ব্যাপক গাফিলতি দেখা গেছে। তৃতীয়ত, চলতি বছরে সংক্রমণ যখন মহামারি আকার ধারণ করে, তখনও হামকে জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি হিসেবে ঘোষণা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। চতুর্থত, সর্বশেষ গণটিকা কর্মসূচির আওতার বাইরে থেকে গেছে প্রায় ৪০ লাখ শিশু।
একসময় টিকাদানে বাংলাদেশের সাফল্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হলেও এখন সেই অর্জনই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। নিয়মিত টিকাদান ও জাতীয় পর্যায়ের বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমেই দেশে হামসহ মারাত্মক সব রোগের বড় প্রাদুর্ভাব এড়ানো সম্ভব হয়েছিল। তবে ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ায় এখন সেই সুরক্ষা বলয়ই দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
জনস্বাস্থ্যবিদ বে-নজির আহমেদের মতে, ২০২০ সালে হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির পর ২০২৪ সালে আরেকটি কর্মসূচি হওয়ার কথা থাকলেও সেটি আর হয়নি, যা ছিল একটি বড় ধরনের অবহেলা। এরপর ২০২৫ সালজুড়ে নিয়মিত টিকাদানেও ঘাটতি দেখা যায়। এমনকি চলতি বছরের গণটিকাদান কর্মসূচিতেও প্রায় ৪০ লাখ শিশু বাদ পড়ে যাওয়ার ঘটনা প্রকৃত অবস্থা উন্মোচন করেছে। তার ভাষ্যমতে, এসব কারণে এখন পাঁচ বছরের বেশি ও ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরাও হামের ঝুঁকিতে রয়েছে। আক্রান্তের তালিকায় বড়দেরও দেখা যাচ্ছে, যা আগের তুলনায় ভিন্ন চিত্র।




