ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা মো. জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার শুনানি শেষে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক কামাল হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণের পর আদালত বিচারের স্বার্থে মামলাটি বদলির নির্দেশ দিয়েছেন। এদিন আদালতে মামলার বাদী ও নিহত জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত উপস্থিত ছিলেন, তবে আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী আদালতে ছিলেন না।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক হোসেন জিপু বলেন, অভিযোগপত্র নথিভুক্ত করার দিন ছিল আজ। তারা অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি জানাননি। দ্রুত বিচারের স্বার্থে আদালত শুনানি শেষে মামলাটি বিচারের জন্য বদলির নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দোষীদের আইন অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে বিচার হবে।
মামলার নথি ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। গত বছরের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার ১৫ নম্বর নূরবক্স লেনের ‘রৌশান ভিলা’ নামের বাসায় ছাত্রীকে পড়াতে গিয়ে তিনি খুন হন। ঘটনার পরদিন নিহতের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
প্রায় ৯ মাসের তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বংশাল থানার উপপরিদর্শক মো. আশরাফ হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তদন্তে বেরিয়ে আসে, এটি কোনো আকস্মিক হামলা ছিল না; বরং প্রায় এক মাস ধরে পরিকল্পনা, নজরদারি, ঘটনাস্থল রেকি এবং সুযোগের অপেক্ষার পর এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। প্রেমের সম্পর্কের জটিলতা এবং অন্তরঙ্গ ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাই ছিল হত্যার মূল কারণ বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই মামলায় অভিযুক্ত তিনজন হলেন—ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা (১৯), তার প্রেমিক মাহির রহমান (১৯) এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান (২১)। তদন্ত কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, মাহির মূল হামলাকারী, বর্ষা হত্যার পরিকল্পনাকারী এবং আয়লান সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে। অভিযুক্ত তিনজনই এখন কারাগারে রয়েছেন।




