সংবিধান সংশোধনের উদ্দেশ্যে গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গতকাল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের এই কমিটি গঠিত হয়। তবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির কমিটিটি প্রত্যাখ্যান করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন নামক সংগঠনটি সরকারের পদক্ষেপকে প্রতারণা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

সংগঠনটির সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, জুলাই অভ্যুত্থান ও গণভোটের মাধ্যমে জনগণ মৌলিক সংবিধান সংস্কারের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে। কিন্তু সরকার গতানুগতিক সংশোধনের পথে হেঁটে সেই আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, অনেক রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সংবিধান সংস্কারের পথ পরিত্যাগ করে পুরনো প্রক্রিয়ায় সংশোধনের উদ্যোগ রাজনৈতিক প্রতারণার এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশের ইতিহাসে নির্বাচন সংক্রান্ত অনিয়মের নজির থাকলেও জনগণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি জানানোর এমন ঘটনা আগে ঘটেনি বলে দাবি তাদের।

পাশাপাশি জুলাই সনদ নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপির বর্তমান অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেন নেতারা। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সরকারের নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ সংসদে দাঁড়িয়ে জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতিগুলোকে নিছক নির্বাচনী কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এ ধরনের প্রতারণার প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তাদের মতে, এর ফলে জাতি স্থায়ী ও অপরিমেয় ক্ষয়ক্ষতির শিকার হবে।

সংসদের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে বিবৃতিতে। সংগঠনটির নেতাদের দাবি, সরকারি দলের নেতাদের এমন যুক্তি সংসদের বৈধতা নিয়েই সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে এবং পরাজিত মাফিয়াদের বৈধতার দাবিকে পরোক্ষভাবে প্রতিষ্ঠিত করছে। তারা সরকারকে এই আত্মঘাতী প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

একইসঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থান ও গণভোটের ম্যান্ডেট এবং ১৮০ দিনের সময়সীমার বাধ্যবাধকতা মেনে অবিলম্বে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় দেশে যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক বা আইনি সংকটের দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।