দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা রুহুল কবির রিজভী। চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যাকবলিত পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, একজন কিশোর শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে গিয়ে পানি পড়ে যায়। যদি পরীক্ষা কেবল কয়েক দিনের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হতো, তাহলে কী এমন ক্ষতি হতো? তিনি আরও উল্লেখ করেন, বন্যার প্রকোপ এতটাই তীব্র যে পানি ডিঙিয়ে উপস্থিত হতে হয়েছে তাকে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, কোনো শিক্ষার্থী যদি বন্যার পানিতে ডুবে প্রাণ হারায়, তাহলে তা হবে অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। তাই তিনি দ্রুত পরীক্ষা স্থগিত করে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির অপেক্ষা করার আহ্বান জানান।
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি দাবি করেন, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও ব্যক্তিস্বার্থে কালভার্ট নির্মাণের কারণেই জলাবদ্ধতা বেড়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় এসব খাল দখলমুক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ তোলেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। তথাকথিত উন্নয়নের আড়ালে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগও তোলেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে তিনি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ও কিশোরগঞ্জে হাওরের ওপর নির্মিত সড়কের কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বাড়িতে যাওয়ার জন্য হাওরের ওপর এই সড়ক তৈরি করা হয়েছিল, যার ফলে ওই এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছের আবাসস্থল ধ্বংস হয়েছে।
ত্রাণ বিতরণ ও পরিদর্শন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি সদস্য সরওয়ার হোসেন ও জাগির হোসেন, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিন উদ্দিন প্রমুখ।



