যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। গত ২০ জুলাই ডাউনিং স্ট্রিটে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, যিনি বর্তমানে দেশটির পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মাত্র চার বছরের ব্যবধানে শপথ নিলেন। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র এবং লেবার পার্টির শীর্ষস্থানীয় এই নেতা সাধারণ মানুষের কাছে 'উত্তরের রাজা' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। করোনা মহামারির সময় উত্তর ইংল্যান্ডের অর্থনৈতিক সুরক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থান তাঁকে দেশব্যাপী খ্যাতি এনে দেয়।

বার্নহ্যামের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় স্থানীয় পর্যায় থেকে। ২০১০ ও ২০১৫ সালে লেবার পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচনে পরাজিত হলেও তিনি থেমে থাকেননি। বরং মেয়র হিসেবে টানা তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালনকালে 'বি নেটওয়ার্ক' গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুসহ আবাসন, গৃহহীনতা ও সামাজিক সুরক্ষায় কাজ করে নিজেকে কার্যকর প্রমাণ করেন। নতুন দায়িত্ব নিয়ে তিনি জীবনযাত্রার ব্যয়সংকট মোকাবিলা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

জীবন ও পারিবারিক পটভূমির দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৭০ সালের ৭ জানুয়ারি মার্সিসাইডের এন্ট্রিতে জন্ম নেওয়া বার্নহ্যাম লিভারপুলের কাছে কাল্ডিচেথে বড় হন। তাঁর বাবা ছিলেন টেলিফোন প্রকৌশলী এবং মা রিসেপশনিস্ট। রোমান ক্যাথলিক পরিবারে বেড়ে ওঠা তিনি ছোটবেলায় গির্জায় অলটার বয় হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিটজউইলিয়াম কলেজে ইংরেজি সাহিত্য পড়ার সুযোগ পান।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ডাচ বংশোদ্ভূত মেরি-ফ্রান্স ভ্যান হিলকে বিয়ে করেন। তাঁদের তিন সন্তান রয়েছে। বার্নহ্যাম তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে গণমাধ্যমের আলোচনার বাইরে রাখতে পছন্দ করেন। সাধারণ মানুষের মতো তিনি সুপারমার্কেটে কেনাকাটা করেন এবং মনে করেন সেখান থেকেই নীতিগত ধারণা পাওয়া যায়। চ্যারিটি আয়োজন ও কমিউনিটিভিত্তিক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশ নেন। ওয়েস্টমিনস্টারের আনুষ্ঠানিক রাজনীতির চেয়ে মাঠে-ঘাটে মানুষের সঙ্গে সময় কাটাতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

পোশাকে তিনি সরল ও ক্লাসিক ব্রিটিশ স্টাইল অনুসরণ করেন। সাধারণত নেভি বা গাঢ় রঙের স্যুট, সাদা বা হালকা নীল শার্ট ও সাধারণ টাই পরেন। আনুষ্ঠানিকতার বাইরে জ্যাকেট, পোলো শার্ট ও সাধারণ পোশাকেও দেখা যায় তাকে। বিলাসবহুল ব্র্যান্ড বা জাঁকজমকপূর্ণ জীবনযাপন থেকে দূরে থাকেন। খাবারের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ ঘরোয়া খাবার ও সাধারণ খাদ্যাভ্যাসই তাঁর পছন্দ। স্থানীয় পাব, ক্যাফে ও সাধারণ রেস্তোরাঁয় খেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং উত্তর ইংল্যান্ডের স্থানীয় ব্যবসা ও খাদ্যসংস্কৃতির প্রতি সমর্থন জানাতে প্রায়ই সেসব প্রতিষ্ঠানে যান।

শখ ও আগ্রহের জায়গায় বার্নহ্যাম এভারটন ফুটবল ক্লাবের আজীবনের সমর্থক। সুযোগ পেলেই চ্যারিটি ফুটবল ম্যাচে খেলেন। ম্যানচেস্টারের ইন্ডি সংগীতের বড় ভক্ত হিসেবে ওয়েসিস ব্যান্ডের গান পছন্দ করেন। বই পড়া ও ফুটবল দেখা তাঁর অবসর কাটানোর অন্যতম মাধ্যম। সূত্র: বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান।