উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডায় যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্টাডি পারমিট, পোস্টগ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট (পিজিডব্লিউপি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নির্দেশনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক স্পষ্ট করেছে দেশটির অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব বিভাগ (আইআরসিসি)। গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রকাশিত এসব হালনাগাদ নির্দেশনায় ভর্তি প্রক্রিয়া, শিক্ষা কার্যক্রমের অগ্রগতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থানান্তর এবং ওয়ার্ক পারমিটের যোগ্যতার মতো বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

আইআরসিসির দাবি, এগুলো কোনো নতুন নীতি নয়; বরং বর্তমান নিয়মগুলোকে আরও স্বচ্ছ ও সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তবুও এসব ব্যাখ্যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তবে প্রভাব ফেলতে পারে। নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো শিক্ষার্থীর কোর্স শেষ হওয়ার তারিখ হবে যেদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রথমবার কমপ্লিশন লেটার, নম্বরপত্র বা ডিগ্রি ইস্যু করবে। সাধারণভাবে এই নথিপত্রে উল্লেখিত তারিখকেই কোর্স সমাপ্তির আনুষ্ঠানিক দিন হিসেবে ধরা হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বদলাতে চাইলে আরেকটি কড়া শর্ত আরোপ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো ডিএলআইয়ের নামাঙ্কিত স্টাডি পারমিট থাকা শিক্ষার্থীরা যদি ভিন্ন কোনো প্রতিষ্ঠানে যেতে চান, তাহলে আগে থেকে একটি নতুন পারমিট নেওয়া বাধ্যতামূলক। আগের পারমিট বহাল রেখে অন্য প্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরু করাকে অনুমোদনহীন অধ্যয়ন হিসেবে গণ্য করা হবে, কারণ পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানে আর ভর্তি না থাকলে সেই অনুমতিপত্র আর কার্যকর থাকে না। যদিও একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই স্তরে (যেমন একটি স্নাতক প্রোগ্রাম থেকে আরেকটি স্নাতকে) শাখা পরিবর্তন করলে নতুন অনুমতিপত্রের দরকার হয় না, তবে মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তবেই নতুন নিবন্ধনপত্র নিতে হবে।

একাডেমিক অগ্রগতির বিষয়টি এখন আরও গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে আইআরসিসি। শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ ১৫০ দিনের অনুমোদিত বিরতির বিধানটি পূর্বের মতোই আছে, কিন্তু একাধিক বার বিরতি গ্রহণের বিষয়ে অভিবাসন কর্মকর্তারা তদন্ত চালাবেন। শিক্ষার্থী কোর্স শেষ করার জন্য যে রূপরেখা নির্ধারিত আছে, সে অনুযায়ী যথাসময়ে অগ্রসর হচ্ছে কিনা, তাও যাচাই করা হবে।

পৃথক একটি সিদ্ধান্তে, ২০২৩ সালের ২৭ জুন থেকে চালু থাকা একটি অস্থায়ী সুবিধার মেয়াদ ২০২৬ সালের ২৭ জুন শেষ হয়েছে। এই সুবিধার আওতায় কিছু ওয়ার্ক পারমিটধারী ব্যক্তি আলাদা করে স্টাডি পারমিট ছাড়াই কানাডায় পড়াশোনা করতে পারতেন। এখন থেকে এই সুযোগ আর প্রযোজ্য হবে না।

শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারিভাবে নতুন কোনো নীতি না এলেও রীতি ব্যাখ্যার এই পরিবর্তন অনেক বিদেশি শিক্ষার্থীকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই কানাডায় অধ্যয়নের জন্য আবেদন করতে বা সেখানকার শিক্ষার্থীরা যেন নিয়মিতসরকারি নির্দেশনাগুলো পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্টাডি পারমিট ও পিজিডব্লিউপির শর্তগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ঠিক করেন।