পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল আউয়াল দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি জানান, কলেজের জরাজীর্ণ সড়ক ও হলগুলোর সংস্কার করা হয়েছে এবং সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্যে ফুলের গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বহুল প্রতিক্ষিত ক্যানটিন চালুর প্রচেষ্টা চলছে, পাশাপাশি ছাত্র সংসদ ভবন, মসজিদ ও একাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নে বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়মিত ক্লাস নিশ্চিত করার পাশাপাশি সকাল ৯টার মধ্যে শিক্ষকদের ক্যাম্পাসে উপস্থিতি আবশ্যক করা হয়েছে। তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক ক্লাসের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে এবং কোচিং-নির্ভরতা কমাতে শিক্ষার্থীদের কলেজের নিয়মিত ক্লাসমুখী করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কলেজের সাম্প্রতিক অর্জন প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ জানান, এ প্রতিষ্ঠানের উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর মেডিকেল ও বুয়েটসহ দেশের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্থান করে নিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে ক্লাস শুরু করার একটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকেই বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন, আবার কেউ কেউ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী হিসেবে সফলতা অর্জন করেছেন, যাঁদের সাফল্যের গল্প শুনে তিনি অনুপ্রাণিত হন।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবন নিয়ে আলোচনায় অধ্যক্ষ দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকারত্বের হার বৃদ্ধি নিচে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অফিস সহায়ক পদের জন্য বিএসসি প্রকৌশলী ও এমবিএ ডিগ্রিধারীদের আবেদনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিষয়টি গভীর চিন্তার। কোন কোন ক্ষেত্রে জনবলের ঘাটতি রয়েছে, সেটি নির্ধারণপূর্বক চাহিদাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করাই এর সমাধান হতে পারে বলে তিনি মত দেন।
সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের চাকরির বাজারের উপযোগী করে তোলার প্রয়াস হিসেবে কলেজ কর্তৃপক্ষ কম্পিউটার জ্ঞান ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা বৃদ্ধির উপর জোর দিচ্ছে। ইতিমধ্যে দুটি কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে এবং সেখানে নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ইংরেজি ও ব্যবহারিক বিষয়ে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য পৃথক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, যদি পূর্ণ সাংগঠনিক সুযোগ পেতেন, তাহলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মডেল পরীক্ষাকেন্দ্র চালু করে ক্লাসের ক্ষতি রোধ করা এবং প্রতিটি বিভাগে আইসিটি শিক্ষক নিয়োগ ও কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করতেন।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমাবদ্ধতার কারণে হয়তো দ্রুত পরিবর্তন আনা সম্ভব হয় না, তবে অবকাঠামো ও শিক্ষক সংকটের বিষয়ে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ, শুধু সনদ অর্জনের জন্য পড়াশোনা না করে চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের গড়ে তোলা এবং অতি আবশ্যকীয় কম্পিউটার ও ইংরেজি দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী হওয়া।




