আগামী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬-এর প্রস্তুতির ধারাবাহিকতায় প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়ের ওপর ভিত্তি করে অনুশীলনী উপকরণ প্রকাশ করা হয়েছে। ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক মিজানুর রহমান প্রণীত এই উপকরণটিতে প্রথম অধ্যায়— ‘আমাদের পরিবেশের সঙ্গে জীবের খাপ খাইয়ে নেওয়া তথা অভিযোজন’—থেকে ৩০টি সত্য/মিথ্যা যাচাইয়ের প্রশ্ন ও তাদের সঠিক উত্তর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রতিটি প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের মৌলিক ধারণা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে তৈরি। শুরুতে জানতে চাওয়া হয়েছে, কিছু জীব মাটি ও জল—উভয় পরিবেশে বাস করে কি না, যার উত্তর ইতিবাচক। অর্কিড বড় গাছে আশ্রয় নিয়ে টিকে থাকে, এটি সত্যি নয়, বরং এটি স্বভোজী উদ্ভিদ। ব্যাঙের জীবনচক্রে ব্যাঙাচি দশায় জলেই বাস করে, স্থলে নয়, যা শিক্ষার্থীকে গুলিয়ে ফেলতে পারে। তৃণভূমির বৈশিষ্ট্য ঘাসজাতীয় উদ্ভিদের প্রাধান্য, এ ধারণা ঠিক। মরুভূমির পরিবেশ শুষ্ক, সেখানে বৃষ্টিপাত বিরল—বিপরীত ধারণাটি সঠিক নয়। মরুজ তাবুহীন পরিবেশের প্রাণী হিসেবে উটের উপস্থিতি বাস্তব। মেরু অঞ্চল বনজঙ্গলে পূর্ণ নয়, এটি বরফময়। পেঙ্গুইন মেরু অঞ্চলের বিশেষ প্রাণী হিসেবে বিবেচিত। শাপলা, পদ্ম ও কচুরিপানা প্রকৃতপক্ষে জলজ উদ্ভিদ, স্থলজ বলে চিহ্নিত করাটা ঠিক নয়। সমুদ্রের জল নোনা, স্বাদু পানি নয়। রাতারগুল মিঠা জলের বন, লোনা জলের পরিবেশ নয়।
অভিযোজনের মূলগত সংজ্ঞা হিসেবে পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে টিকে থাকার বিষয়টি সত্য। স্থলজ উদ্ভিদের কাণ্ডে ফাঁপা অংশ না থাকাই স্বাভাবিক, তবে জলজ উদ্ভিদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটে। কচুরিপানার ভাসমান ক্ষমতা বায়ুকুঠুরির ওপর নির্ভরশীল, পূর্ণ পূর্ণ থাকলে সেটি ডুবে যেত। পায়ের গঠনে মুরগি ডাঙায় হাঁটার জন্য তৈরি, সাঁতারের জন্য হাঁসের পা অনেক বেশি কার্যকর, যে কারণে হাঁস সহজেই সাঁতার কাটতে সক্ষম। অভিযোজনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো পরিবেশে টিকে থাকা ও বংশবৃদ্ধি, কেবল উদ্ভিদে নয়, প্রাণীর মধ্যেও এর প্রকাশ দেখতে পাওয়া যায়। বনের বৃহৎ উদ্ভিদের কাণ্ড শক্ত ও মজবুত হয়, নরম নয়। কিছু গাছ শীতে পানিশূন্যতা রোধে পত্রমোচন করে, যা একটি অভিযোজন কৌশল। ঈগলের বাঁকানো ঠোঁট মাংস ছিড়তে উপযোগী, ঘাস খাওয়ার জন্য নয়। মরু অঞ্চলের উদ্ভিদে পানি ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তায় পাতা ও কাণ্ড রসালো ও পুরু হয়, যেমন ফণীমনসায় দেখা যায়। উটের কুঁজে জমা চর্বি তাদের দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে সহায়তা করে। মরুভূমির খুদে প্রাণীগুলি রোদের দাবদাহ এড়াতে গর্তে বাস করে। মেরু অঞ্চলের প্রাণীদের ত্বকের নিচে চর্বির পুরু স্তর থাকা আবশ্যক। শ্বেত ভল্লুকের সাদা রং বরফময় অঞ্চলে মিশে গেলেও মরুতে তা প্রতিপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেই। জলজ উদ্ভিদের মূল দীর্ঘ ও শক্ত হয় না, কারণ পানি শোষণে আলাদা সুবিধা রয়েছে। শেষ প্রশ্নে মাছের দেহে ভাসমানতা রক্ষার জন্য বায়ুথলির অস্তিত্ব সত্য। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার পুর্ব প্রস্তুতির জন্য বিষয়ভিত্তিক এই ধরনের অনুশীলনমূলক কন্টেন্ট নিয়মিতই আলোকপাত করা হচ্ছে।




