আজ শনিবার সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষ করে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি সরকারের পররাষ্ট্রনীতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক স্পষ্ট করেন। বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা এবং সরকারপ্রধানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে তিনি বিশদ মতামত দেন।
সরকারপ্রধান তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, উভয় দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জনের পরেই কেবল উপযুক্ত সময়ে এই সফর অনুষ্ঠিত হতে পারে। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও তিনি জোর দেন।
প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও পূর্বাভাস তৈরি করা অপরিহার্য বলে মনে করেন হুমায়ুন কবির। দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা সফল করতে হলে উভয় পক্ষকে আগে থেকেই একটি মজবুত ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে। ঠিক সেই কাজটিই বর্তমানে চলমান। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ছাড়া সফরের কোনো তাড়াহুড়ো করা হবে না। জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যদি একটি সমঝোতা আগামী দিনগুলোতে সম্ভব হয়, তাহলে পরবর্তী সপ্তাহে কিংবা তার পরেই যাত্রা হতে পারে; কিন্তু সময় নিয়ে কোনো চাপ নেই বলে তিনি পুনরায় স্পষ্ট করেন।
প্রতিবেশী হিসেবে নতুন দিল্লির সঙ্গে ঢাকা একটি ইতিবাচক ও কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী—এই বার্তা দেন প্রতিমন্ত্রী। তবে বাংলাদেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা সম্ভব নয় বলে তিনি কঠোরভাবে জানান। শুধু ভারতের ক্ষেত্রেই নয়, বিশ্বের যেকোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার সময়ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না বলে তিনি দৃঢ় মত প্রকাশ করেন। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে কার্যকর সম্পর্ক থাকা উচিত—এই যুক্তিতেই ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথা বলেন তিনি। আমরা একটি ইতিবাচক সম্পর্ক চাই—কেন চাইব না, তারা আমাদের প্রতিবেশী—এই ভাষ্যও তিনি ব্যবহার করেন।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, ঢাকা ও নতুন দিল্লির মধ্যে একটি প্রত্যর্পণ চুক্তি বিদ্যমান রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা কয়েকটি মামলার বিচারিক কার্যক্রম ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে; আরও কিছু মামলা বর্তমানে বিচারাধীন। সুতরাং, এই বিষয়গুলো কোনো নতুন শর্ত বা নতুন ধরনের সম্পৃক্ততা নয়—বরং চলমান প্রক্রিয়ার অংশ।
ভারতে পলাতক শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য কথিত অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বাংলাদেশের জনগণের স্বাভাবিক দাবি ও গভীর অনুভূতির সঙ্গে জড়িত বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। আরও অনেক অপরাধী সেখানে পলাতক রয়েছেন বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চায় সরকার—এমন প্রত্যাশার কথাও তিনি সাংবাদিকদের জানান। গতকাল শুক্রবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর এটি ছিল তাঁর প্রথম গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য।




