শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট একটি অস্থায়ী আদেশ জারি করে হোয়াইট হাউসের বলরুম নির্মাণকাজে বাধা সৃষ্টিকারী একটি নিম্ন আদালতের রায় স্থগিত করেন। এর পরদিন শনিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকল্পটির প্রশংসা করে বলেন, কাজটি সময়ের আগেই এগোচ্ছে, বাজেটের সীমার মধ্যেই রয়েছে এবং সম্পূর্ণ বেসরকারি অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ৯০ হাজার বর্গফুটের এই সংযোজনের জন্য করদাতার কোনো টাকা ব্যয় হবে না এবং এর মোট ব্যয় ৪০ কোটি ডলার। ট্রাম্প বলেন, “মহান আমেরিকান দেশপ্রেমিক ও কোম্পানিগুলো সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করছে।” কিন্তু প্রকল্পের তদারকির দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ক্লার্ক কনস্ট্রাকশন চলতি বছরের শুরুতে হোয়াইট হাউসকে জানিয়েছিল যে নির্মাণ ব্যয় ৬০ কোটি ডলার হতে পারে এবং এর অর্ধেকের বেশি করদাতার তহবিল থেকে আসবে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্প ঘোষণার মুহূর্ত থেকেই প্রশাসন জানত যে কাজটি মূলত সরকারি অর্থের ওপর নির্ভরশীল হবে। ক্লার্ক কনস্ট্রাকশনকে ইতিমধ্যে এক ডজনের বেশি অনুমোদিত বিল পরিশোধের মাধ্যমে সরকারি তহবিল থেকে কয়েক কোটি ডলার প্রদান করা হয়েছে।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, হোয়াইট হাউসে একটি বিশাল অনুষ্ঠানস্থল নির্মাণ করা হবে যা ৬৫০ জনকে বসানোর সক্ষমতা রাখবে। এই স্থাপনায় বোমা আশ্রয়কেন্দ্র ও বড় ধরনের চিকিৎসা সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানানো হয়। তখন ব্যয়ের অনুমান ছিল ২০ কোটি ডলার, যা পরে অন্তত দ্বিগুণ হয়েছে। প্রকল্পের আকার বিদ্যমান হোয়াইট হাউসের (৫৫ হাজার বর্গফুট) চেয়েও বড়। পূর্ব উইং ভেঙে ফেলার পর নতুন এই অংশ নির্মাণের জন্য স্থান প্রস্তুত করা হয়েছে।

এই নির্মাণকাজের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক সংরক্ষণ সংস্থা ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টোরিক প্রিজারভেশন আদালতে মামলা করেছে। সংস্থার অভিযোগ, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই প্রশাসনের এই ভবন নির্মাণের কোনো আইনগত কর্তৃত্ব নেই। মামলা চলাকালীন কাজ বন্ধের জন্য কয়েকটি আদালতের আদেশ জারি হলেও বিভিন্ন আপিল ও নিম্ন আদালতের রায়ে নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে। ট্রাস্টের যুক্তি, নির্মাণ চলতে থাকলে প্রশাসন বিচারিক পর্যালোচনা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হবে এবং এক পর্যায়ে বলরুমের কাজ এতদূর এগিয়ে যাবে যে তা আর থামানো সম্ভব হবে না। বিপরীতে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, কাজ বন্ধ করলে জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং অসম্পূর্ণ কাঠামো ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আদালতে জমা দেওয়া সাম্প্রতিক নথিতে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রকল্পের ৬৫ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

শুক্রবারের সিদ্ধান্তে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ নির্মাণকাজ “পরবর্তী আদেশ পর্যন্ত” চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেন, তবে স্থায়ী সিদ্ধান্ত কবে আসতে পারে সে বিষয়ে কোনো সময়সূচি দেওয়া হয়নি। অর্থায়নের উৎস নিয়ে বিভ্রান্তি অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্প কখনো বলেছেন, অ্যামাজন, অ্যাপল, মেটা, কয়েনবেস ও লকহিড মার্টিনের মতো প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত অনুদান একটি অলাভজনক সংস্থার মাধ্যমে পুরো ব্যয় মেটাবে। অন্য সময় তিনি উল্লেখ করেন, সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনী নিরাপত্তা উন্নয়নে অবদান রাখবে, যদিও সেই অংশের ব্যয় সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। আরও কিছু অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, সিক্রেট সার্ভিস ও হোয়াইট হাউস মিলিটারি অফিসের মাধ্যমে করদাতার তহবিল থেকে ১০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ এই প্রকল্পে ব্যবহৃত হতে পারে। ফলে ট্রাম্পের “শূন্য করদাতা ব্যয়” দাবির সঙ্গে ঠিকাদারের অনুমান ও সরকারি নথির তথ্যের মধ্যে স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি হয়েছে।