প্রয়াত নায়ক সালমান শাহ ও চিত্রনায়িকা শাবনূরের জুটি ঢালিউডে আজও সমান জনপ্রিয়। পর্দায় তাঁদের রসায়ন দর্শকদের মনে দাগ কাটলেও, পর্দার বাইরে এই জুটির ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। সালমানের মৃত্যুর পর থেকে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল— এমন গুঞ্জনও বহুবার ছড়িয়েছে। তবে এবার সেই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তাঁর ছেলের সঙ্গে শাবনূরের সম্পর্ক ছিল সম্পূর্ণ ভাই-বোনের মতো, সেখানে প্রেমের কোনো স্থান ছিল না।

সম্প্রতি সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল অভিনেতা ডন গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলার সময় সাংবাদিকদের কাছে এই মন্তব্য করেন নীলা চৌধুরী। তিনি বলেন, শাবনূরের সঙ্গে সালমানের সম্পর্ক ছিল গভীর স্নেহের। শাবনূর ছেলের উপর নির্ভরশীল ছিলেন এবং সালমানও তাকে সর্বদা সাহায্য করার চেষ্টা করতেন। যেহেতু সালমানের নিজের কোনো বোন ছিল না, তাই সে শাবনূরকে নিজের বোন হিসেবেই দেখত। নীলা চৌধুরীর ভাষ্য, শাবনূরের প্রতি সালমানের যে ভালোবাসা ছিল তা প্রিয়জনের প্রতি, প্রেমিকার প্রতি নয়।

তবে একই সঙ্গে শাবনূর সম্পর্কে কিছু অভিযোগও করেছেন সালমান শাহর মা। তাঁর দাবি, শাবনূর নিজেকে সালমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে আছে এমন একটা ভাব প্রকাশ করতে চাইতেন। পরবর্তী সময়ে এই সম্পর্কের খবর নিয়ে নানা রকম গল্পও তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, শাবনূর বরাবরই এই সম্পর্ককে ভাই-বোনের আখ্যা দিয়ে এসেছেন। তিনি আগেও গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সালমান তাঁকে 'পিচ্চি' বলে ডাকতেন এবং তিনি তাকে কখনো প্রেমিকের চোখে দেখেননি। এমনকি সালমানের মৃত্যুর পর কিছু লোক তাঁর নাম জড়িয়ে ব্যবসা করার চেষ্টা করেছে বলেও মন্তব্য করেছেন এই অভিনেত্রী।

১৯৯৩ সালে 'কেয়ামত থেকে কেয়ামত' সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পথচলা শুরু সালমান শাহর। প্রথম ছবিতে তাঁর নায়িকা ছিলেন মৌসুমী। তবে ‘তুমি আমার’ সিনেমার মাধ্যমে শাবনূরের সঙ্গে জুটি বাঁধার পরই বাংলা চলচ্চিত্রে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এই জুটি। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করেন সালমান, যার মধ্যে ১৪টিতেই নায়িকা ছিলেন শাবনূর। ‘সুজন সখী’, ‘বিচার হবে’, ‘বিক্ষোভ’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘মহামিলন’, ‘তোমাকে চাই’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘জীবন সংসার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘প্রেম পিয়াসী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘আনন্দ অশ্রু’র মতো ব্যবসাসফল সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেছেন তাঁরা।

শাবনূরের ভাষ্য অনুযায়ী, কাজের সূত্র ধরেই সালমানের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছিল। সালমান ছিলেন অত্যন্ত বড় মনের মানুষ, যিনি সবাইকে সম্মান করতেন। সহশিল্পীদের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা ছিল প্রশংসনীয়। শুটিংয়ের ফাঁকে তাঁদের মধ্যে ছিল চমৎকার বোঝাপড়া। এমনকি সালমানের স্ত্রী সামিরার সাথেও শাবনূরের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল। শুটিংয়ের সময় সামিরা প্রায়ই তাঁদের সঙ্গে থাকতেন এবং দুই পরিবারের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। কক্সবাজারে শুটিংয়ের সময় রাতে সাগরপাড়ে ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের আয়োজনও হতো, যেখানে দুই পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে সময় কাটাতেন।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় মৃত্যু হয় সালমান শাহর। তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তাঁর মৃত্যু, ব্যক্তিজীবন ও সহশিল্পীদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা আজও থেমে নেই। এবার সালমানের মায়ের বক্তব্যে আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে সালমান–শাবনূরের সম্পর্কের বিষয়টি।