বিশ্বব্যাপী ‘বেবি শার্ক বয়’ নামে পরিচিত পার্ক গন-রুং এবার সংগীতের নতুন অঙ্গনে পা রাখতে যাচ্ছেন। ২০১৬ সালে প্রকাশিত ইউটিউবের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও ‘বেবি শার্ক ড্যান্স’-এ শিশুশিল্পী হিসেবে আবির্ভাব ঘটেছিল তার। সেই পরিচিতি এখন কে-পপ জগতে প্রসারিত হতে চলেছে। ১৭ বছর বয়সী এই তরুণের প্রথম একক গানটি প্রকাশিত হবে আগামী ২০ আগস্ট। খবরটি নিশ্চিত করেছে ভিডিওটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান দ্য পিঙ্কফং কোম্পানি।

সোমবার প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পার্কের প্রথম ডিজিটাল একক গানের নাম ‘ওয়েভ’। কোরীয় ভাষায় গাওয়া এই গানের কথাও লিখেছেন পার্ক নিজে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড মনস্টা এক্সের সদস্য জুহনি। এর মাধ্যমে দুই প্রজন্মের শিল্পীর সম্মিলন ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০১৬ সালে মাত্র ছয় বছর বয়সে ‘বেবি শার্ক ড্যান্স’ ভিডিওতে প্রথমবারের মতো দর্শকদের সামনে হাজির হন পার্ক। ভিডিওটি এখন পর্যন্ত ১৭.২ বিলিয়নেরও বেশি বার দেখা হয়েছে। টানা ৬৯ মাস ধরে ইউটিউবের সবচেয়ে বেশি দেখা ভিডিওর তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিল এটি। গত বছর গানটির ১০ বছর পূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যেগুলোতেও দেখা যায় পার্ককে। এসব ভিডিও মিলিয়ে মোট ২ কোটি ২০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে পার্ক এক বিবৃতিতে বলেছেন, শৈশবে যে ভিডিওতে তিনি ছিলেন, মানুষ এখনও সেটি স্মরণ করে রেখেছে—এই বিষয়টি তার জন্য সব সময়ই কৃতজ্ঞতার। তিনি আরও বলেন, এক দশক আগে তিনি বেবি শার্কের পাশে নাচতেন, আর এখন নিজের কণ্ঠে ও নিজের লেখা একটি গল্প প্রকাশ করতে যাচ্ছেন। যারা এতদিন তাকে মনে রেখেছেন, তাদের সঙ্গে নতুন কোনো কাজ শুরু করতে পেরে তিনি আনন্দিত। এর মাধ্যমে নিজের পরিণতির পথটিও দেখাতে চান তিনি।

দ্য পিঙ্কফং কোম্পানির একজন প্রতিনিধি জানান, বেবি শার্কের সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে উঠেছে বেবি শার্ক বয়ও। সারা বিশ্বের ভক্তদের সঙ্গে তার এক বিশেষ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এটি কেবল সেই ছেলেটিকে ফিরিয়ে আনার ঘটনা নয়; বরং এবার সে নিজের গল্প নিজেই বলতে চায়। প্রতিষ্ঠানটি ‘বেবি শার্ক’কে শিশুদের বিনোদনের গণ্ডি পেরিয়ে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায়, যার অংশ হিসেবে কে-পপ বাজারে প্রবেশের এই উদ্যোগ। তবে প্রচলিত অর্থে এটি কোনো পূর্ণাঙ্গ কে-পপ শিল্পীর আত্মপ্রকাশ নয় বলেও জানানো হয়েছে। এটি মূলত একটি এককালীন প্রকল্প। গানটি প্রকাশের পর পার্কের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোরিয়া হেরাল্ডের প্রতিবেদন অবলম্বনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।