বহুজাতিক তামাক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের (বিএটিবিসি) চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সিগারেট বিক্রি ও মুনাফা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এই তিন মাসে কোম্পানিটি মোট ১৪ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকার সিগারেট বিক্রি করে। আগের বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে বিক্রি বেড়েছে ৬৭৮ কোটি টাকা, যা শতকরা প্রায় ৫ শতাংশ।

গত বৃহস্পতিবার কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রতিবেদনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ পৌঁছে দেওয়া হয়। আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, বিক্রি বাড়ার পাশাপাশি কোম্পানির মুনাফাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে বিএটিবিসির কর–পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২০৪ কোটি টাকায়। গত বছরের একই সময়ে এই মুনাফা ছিল ৯৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা বেড়েছে ১০৭ কোটি টাকা, যা দ্বিগুণেরও বেশি।

মুনাফা বৃদ্ধির খবরে আজ শেয়ারবাজারে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম কিছুটা বেড়েছে। ডিএসইতে লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টায় প্রতিটি শেয়ারের দাম ১ টাকা ৩০ পয়সা বেড়ে ২২৭ টাকায় পৌঁছেছে। এই সময়ে প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যার বাজারমূল্য ৩ কোটি টাকার বেশি।

তবে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের (জানুয়ারি-জুন) পুরো সময়কাল বিবেচনা করলে বিক্রি কিছুটা কমেছে। এই সময়ে কোম্পানির মোট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা, যেখানে গত বছরের প্রথমার্ধে ছিল ২৩ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা। এর ফলে ছয় মাসের মুনাফাও কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাস শেষে কর–পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৪১৩ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের ৪১৫ কোটি টাকার চেয়ে কিছু কম।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আয়ের অন্যতম বড় উৎস হলো তামাক কোম্পানিগুলো। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সোয়া ২৩ হাজার কোটি টাকার সিগারেট বিক্রির বিপরীতে বিএটিবিসি সরকারকে সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট বাবদ দিয়েছে ১৯ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত পুরোনো কোম্পানিগুলোর একটি বিএটিবিসি। ১৯৭৭ সালে এটি ঢাকার শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে এটি ভালো মৌলভিত্তির কারণে ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত কোম্পানি হিসেবে বিবেচিত।