দেশের রংশিল্পের বর্তমান অবস্থা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে গ্রাহকদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে নিজেদের কৌশল ও পরিকল্পনা নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মহসিন হাবিব চৌধুরী।
শিল্পে নেতৃত্ব বলতে কেবল বাজারের শীর্ষস্থান ধরে রাখা নয়, বরং গুণগত উন্নয়ন ঘটানোকেও অগ্রাধিকার দেন বলে জানান তিনি। আধুনিক গ্রাহকেরা ঝামেলাবিহীন সম্পূর্ণ পেইন্টিং সমাধান চান, তাই বার্জার এক্সপেরিয়েন্স জোন, এক্সপ্রেস পেইন্টিং ও ডিজাইন স্টুডিওর মাধ্যমে রং নির্বাচন থেকে শুরু করে দক্ষ প্রয়োগ ও সাজসজ্জার সমন্বিত সেবা দেওয়া হচ্ছে। কারখানাগুলোর আধুনিকায়ন, ডিজিটালাইজেশন এবং গবেষণায় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশের অতিরিক্ত বৃষ্টি, আর্দ্রতা ও তীব্র রোদ মোকাবিলায় বিশেষ পণ্য উদ্ভাবনের ওপর জোর দিয়েছেন চৌধুরী। বহির্দেয়ালের সুরক্ষায় ‘ওয়েদারকোট’ এবং স্যাঁতসেঁতে সমস্যার সমাধানে ‘ড্যাম্পগার্ড’ পণ্য বেশ কার্যকর বলে উল্লেখ করেন তিনি। দেশে প্রথমবারের মতো ২০১২ সালে সিসামুক্ত রং উৎপাদনে পথিকৃৎ ভূমিকা নিয়েছিল বার্জার। বাতাস বিশুদ্ধ রাখতে ‘ইকোকোট’ এবং পরিবেশবান্ধব ‘লো-ভিওসি’ প্রযুক্তির মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় নিয়মিত কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
গৃহসজ্জার রঙের বাইরে শিল্প খাতেও বার্জার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানান এই শীর্ষ নির্বাহী। দেশের সর্বোচ্চ ৪৫ তলা টিএ টাওয়ারের মতো প্রকল্পে সমন্বিত কোটিং সমাধান দিচ্ছে তারা। এ ছাড়া পাউডার কোটিংস, মেরিন, ভেহিকেল রিফিনিশ, কনস্ট্রাকশন কেমিক্যালস ও টেক্সটাইল কেমিক্যাল সরবরাহ করছে। বিশ্বখ্যাত ‘ফসরেক’-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ এবং প্যাকেজিং খাতে বিনিয়োগ দেশীয় শিল্পের অগ্রগতিতে অবদান রাখছে।
অর্থনৈতিক চাপ ও শুল্ক বৃদ্ধির পরোক্ষ প্রভাব মোকাবিলায় গ্রাহকের ওপর পুরো চাপ না ফেলে অভ্যন্তরীণ দক্ষতা বৃদ্ধি, কৌশলগত কাঁচামাল সংগ্রহ ও শক্তিশালী সাপ্লাই চেইনের মাধ্যমে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে বার্জার। বৈশ্বিক অস্থিরতা, ডলারের দাম ও সম্পূরক শুল্ক ২৫ শতাংশে বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। তবে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ও বৈচিত্র্যময় পোর্টফোলিও গ্রাহকদের বাজেটের মধ্যে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করছে।
দেশে মাথাপিছু রঙের ব্যবহার মাত্র দেড় কেজি, যা বিশাল প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয় বলে মন্তব্য করেন মহসিন হাবিব চৌধুরী। এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মিরসরাই ইকোনমিক জোনে ৯৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগে নতুন কারখানা নির্মাণ করছে বার্জার। দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য এলসি সহজীকরণ ও যৌক্তিক করনীতি জরুরি বলে মনে করেন তিনি। পেট্রোকেমিক্যাল ও রেজিনের মতো ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প গড়ে তুলতে পারলে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং দেশের শিল্প খাত আরও শক্তিশালী, টেকসই ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে দেশ ও গ্রাহকদের উন্নত সেবা প্রদানে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।



