বহুজাতিক ইলেকট্রনিকস কোম্পানি সিঙ্গার বাংলাদেশ আবার লাভের ধারায় ফিরে এসেছে। চলতি ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) কোম্পানিটি প্রায় ১৪ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে। গত বছরের একই সময়ে কোম্পানিটি ৩১ কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েছিল। এছাড়াও চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেও (জানুয়ারি-মার্চ) সিঙ্গারের লোকসানের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৬ কোটি টাকা। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
গত ২৪ জুলাই (বৃহস্পতিবার) কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। এরপর রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে বিনিয়োগকারীদের কাছে তথ্য প্রকাশ করে সিঙ্গার। প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, বড় অঙ্কের লোকসান কাটিয়ে মুনাফায় ফেরার পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে সুদ ব্যয় হ্রাস এবং ব্যাংকে জমা অর্থের বিপরীতে অর্জিত সুদ আয়। পাশাপাশি কোম্পানির ব্যবসায়িক পরিধিও সম্প্রসারিত হয়েছে।
চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সিঙ্গারের মোট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৮৩৭ কোটি টাকায়, যা গত বছরের একই প্রান্তিকের ৮১১ কোটি টাকা থেকে ২৬ কোটি টাকা বা সোয়া ৩ শতাংশ বেশি। তবে প্রথম প্রান্তিকের (৫৭৭ কোটি টাকা) তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যবসায় ২৬০ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশেরও বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। ব্যবসা বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাংক সুদ আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে এই খাত থেকে কোম্পানি প্রায় ২৪ কোটি টাকা আয় করেছে, অথচ গত বছরের একই সময়ে এই খাত থেকে কোনো আয় ছিল না; বরং ব্যাংক সুদ ব্যয়ই বেশি ছিল।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে মুনাফা হলেও প্রথম প্রান্তিকের বড় লোকসানের কারণে অর্ধবার্ষিক (জানুয়ারি-জুন) বিবেচনায় কোম্পানি এখনও লোকসানের বৃত্ত থেকে পুরোপুরি বের হতে পারেনি। তবে গত বছরের প্রথমার্ধের তুলনায় লোকসানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে দাঁড়িয়েছে ৪২ কোটি টাকায়, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৬৬ কোটি টাকা। ইতিবাচক আর্থিক প্রতিবেদনের প্রভাব শেয়ারবাজারেও পড়েছে। আজ সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকার বাজারে সিঙ্গারের শেয়ার দর বেড়েছে। লেনদেন শুরুর প্রথম দেড় ঘণ্টায় প্রতিটি শেয়ারের দাম ১ টাকা বা দেড় শতাংশের বেশি বেড়ে ৭৮ টাকায় উঠেছে। এ সময় প্রায় সোয়া এক লাখ শেয়ার হাতবদল হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৮৩ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সিঙ্গার বাংলাদেশ বর্তমানে 'জেড' শ্রেণিভুক্ত দুর্বল কোম্পানি হওয়ায় এর শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা ঋণ সুবিধা পান না।



