গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় ব্যাপক আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। রোববার রাতে পলাশবাড়ীর রাম মন্দির থেকে তাঁকে আটক করে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সোমবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন। তিনি জানান, ঢাকায় দায়ের হওয়া একটি মানি লন্ডারিং মামলায় হরিদাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১০ কোটি টাকা সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নগদ লেনদেন ও হুন্ডির মাধ্যমেও অর্থ আদান-প্রদান হয়েছে বলে জানা যায়।
সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হরিদাস চন্দ্র পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা। ২০০৬ সালে এসএসসি ও ২০০৮ সালে এইচএসসি পাস করার পর ২০১০ সালে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নেন। ২০১৯ সালে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম গ্রহণ করেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল কর্মকর্তা বলে পরিচয় দিতেন। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়া, বদলি, হুন্ডি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, বৈধ আয়ের কোনো উৎস না থাকা সত্ত্বেও তার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্টে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জমা হয়েছে। একই সময়ে প্রায় সমপরিমাণ অর্থ উত্তোলনও করা হয়েছে, যা সন্দেহজনক বলে মনে করছে সিআইডি। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু ব্যক্তি তার অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দিয়েছেন, যা তার পেশার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এছাড়া বনানী থানায় তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা রয়েছে।
২০২২ সালের ৮ নভেম্বর র্যাবের যৌথ অভিযানে সহযোগীসহ ঢাকার বনানী থেকে আটক হয়েছিলেন তিনি। তখন কেউ মামলা না করায় ৫৪ ধারায় কারাগারে পাঠানো হয় এবং পরে মুক্তি পান। স্থানীয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর হরিদাস মধ্যরামচন্দ্রপুর গ্রামে দুই একর জমির ওপর শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরের সংস্কার ও আধুনিকায়নের কাজ শুরু করেন। সেখানে ২৮ ফুট উচ্চতার শিবমূর্তি ও ৫৩ ফুট উচ্চতার কৃষ্ণমূর্তি নির্মাণ করা হয়েছে। ৮১ ফুট উচ্চতার রাম মূর্তি নির্মাণাধীন।
২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর মন্দিরটির কৃষ্ণমূর্তি উদ্বোধন করেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার শ্রী মনোজ কুমার। এছাড়া ২০১৯ সালে ময়মনসিংহ বিভাগের ফুলবাড়িয়া এলাকায় প্রায় এক বিঘা জমি কিনে সেখানে রিসোর্ট তৈরির তথ্য পাওয়া গেছে। সম্প্রতি হরিদাসের বিরুদ্ধে আয়ের উৎস খুঁজে বের করা ও গ্রেপ্তারের দাবিতে গাইবান্ধায় সচেতন নাগরিক ফোরামের ব্যানারে আন্দোলন শুরু হয়। কয়েক দফায় মানববন্ধনের পর রোববার দুপুরে পলাশবাড়ী উপজেলা সদরের চৌরাস্তা এলাকায় শেষ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানে হরিদাসকে ঢাকায় নিয়ে গেছে সিআইডি এবং তার সন্দেহজনক লেনদেনের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।



