কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানায় একটি শিশু ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার রাত দশটার দিকে ওই শিশুর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এ মামলা করেন। অভিযুক্ত হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে স্থানীয় এক কিশোরের (১৬), যে বর্তমানে পলাতক। পুলিশ জানায়, সে চলতি বছর একটি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার সকালে। ভুক্তভোগী শিশুটি পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। সে বাড়ির কাছের একটি মক্তবে পড়তে গিয়েছিল। ওই মক্তবে অভিযুক্ত কিশোরের ছোট বোনও পড়ে। সকালে ভারী বৃষ্টি শুরু হলে পাঠ শেষ হওয়ার পরও শিশু দুটি মসজিদে আশ্রয় নেয়। কিছুক্ষণ পর অভিযুক্ত কিশোর ছাতা নিয়ে এসে তার বোনকে বাড়ি পৌঁছে দেয়। এরপর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগী শিশুটিকে মক্তবের পাশের একটি পুরনো টিনশেড ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার সময় স্থানীয় এক পথচারী ঘরের ভেতর থেকে চিৎকার শুনতে পান। তিনি ঘরে গেলে অভিযুক্ত দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। ওই ব্যক্তি শিশুটিকে উদ্ধার করে তাঁর পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন। শিশুটি তার নানা বাড়িতে থেকে পড়ালেখা করে।
প্রথমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়। কয়েকজন স্থানীয় মাতব্বর বিষয়টি বিয়ের মাধ্যমে মীমাংসার উদ্যোগ নেন। কিন্তু শিশুটির বাবা ঘটনা জানতে পেরে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। শনিবার বিকেলে থানায় গিয়ে তিনি অভিযোগ দাখিল করেন এবং রাতে তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
শিশুটিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। শিশুটির মা সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁর মেয়েকে মক্তব থেকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি বিচারের আশায় মামলা করেছেন।
অভিযুক্ত কিশোর পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মা অসুস্থ থাকায় এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন বলেন, পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তারা দ্রুতই তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।




