পাবনার বেড়া উপজেলায় একসময়ের ব্যস্ত সড়ক এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ২০১৩ সালে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বড়শিলা-নলভাঙা-খাকছাড়া সড়কটি এখন ভেঙেচুরে জনশূন্য হয়ে গেছে। বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, আগাছা ও ঘাস জন্মেছে। রিকশা-ভ্যান বা সাইকেল চলাচলেরও কোনো উপায় নেই। নির্মাণের পর প্রথম বছর থেকেই বৃষ্টি ও বিলের পানির তোড়ে সড়কের বিভিন্ন অংশ ভাঙতে শুরু করে। বর্ষাকালে কয়েকটি স্থানে পানি উঠে যেত। ছয়-সাত বছর ব্যবহারের পর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে সড়কটি পুরোপুরি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, বেড়া পৌরসভার বড়শিলা থেকে চাকলা ইউনিয়নের নলভাঙা হয়ে খাকছাড়া পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি বিল এলাকার মধ্য দিয়ে গেছে। এটি চালু হওয়ার পর উপজেলা সদরের সঙ্গে চাকলা ও কৈতলা ইউনিয়নের নলভাঙা, খাকছাড়া, চাকলা, দমদমা, জয়নগর, কৈতলাসহ অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ সহজ হয়ে যায়। কৃষিপণ্য পরিবহন ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে সড়কটি দ্রুত ব্যস্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিল এলাকার কথা বিবেচনা না করে নিচু ও সরু করে সড়কটি নির্মাণ করা হয়। নলভাঙা গ্রামের কৃষক মো. রেজাউল বলেন, 'একসময় এই রাস্তা দিয়ে সহজে উপজেলা সদরে যাতায়াত করতাম। কৃষিপণ্যও নিয়ে যেতাম। এখন দিনের বেলাতেও হাঁটতে ভয় লাগে। বাধ্য হয়ে ৮-১০ কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা সদরে যেতে হয়।' খাকছাড়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মানিক হোসেন জানান, সড়কটি চালু হওয়ার পর আশপাশের কয়েকটি গ্রামের অনেক শিক্ষার্থী তাদের বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল। এখন ওইসব গ্রামের শিক্ষার্থীরা আর এ পথে আসতে পারে না। এলাকাবাসী ও এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, সড়কটি সংস্কারের দাবি দীর্ঘদিনের। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি পুনর্নির্মাণ ও উন্নয়নের জন্য একটি প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরি করে এলজিইডি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করলেও অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়নি। এলজিইডির বেড়া উপজেলা কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী রমজানুল ইসলাম বলেন, 'সড়কটি এলাকাবাসীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় কয়েক বছর আগে সংস্কারের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল; কিন্তু তা অনুমোদন পায়নি। শিগগিরই নতুন করে সড়কটি নির্মাণের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।'