কলাম্বিয়া ল স্কুলের একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আমাজন ও ওয়ালমার্টের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত শপিং এজেন্টরা 'মেড ইন ইউএসএ' লেবেলযুক্ত পণ্যগুলো গ্রাহকদের কাছে কম দৃশ্যমান করছে। গবেষকদের মতে, এই এআই সিস্টেমগুলো কেবল দেশীয় পণ্য লুকিয়ে রাখেই ক্ষান্ত হচ্ছে না, বরং পণ্যের উৎপত্তিস্থান সম্পর্কে মিথ্যা দাবি করতেও গ্রাহকদের প্ররোচিত করছে। মজার বিষয় হলো, এআই এজেন্টরা নিজেরাই স্বীকার করেছে যে এটি একটি ব্যবসায়িক পছন্দ, যা তাদের অ্যালগরিদমের নকশা ও অগ্রাধিকারের বিষয়টি স্পষ্ট করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যখন গ্রাহকরা 'মেড ইন ইউএসএ' পণ্য খুঁজতে এআই সহায়তা নেয়, তখন অনেক ক্ষেত্রে সেই পণ্যগুলো ফলাফলের তালিকার শেষের দিকে চলে যায় অথবা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকে। এর পরিবর্তে, এআই এজেন্টরা সস্তা বিদেশী বিকল্প বা নিজেদের প্রাইভেট লেবেল পণ্য দেখানোর প্রবণতা রাখে। গবেষকরা এই প্রবণতাকে দেশীয় উৎপাদনকারীদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যারা ইতিমধ্যেই বড় বড় খুচরা বিক্রেতাদের প্ল্যাটফর্মে টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করছে।
এআই এজেন্টদের এই আচরণের পেছনে মূল কারণ হিসেবে গবেষণায় ব্যবসায়িক স্বার্থকে দায়ী করা হয়েছে। এআই এজেন্টরা যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল কেন তারা 'মেড ইন ইউএসএ' পণ্যকে অগ্রাধিকার দেয় না, তখন তাদের উত্তর ছিল যে এটি কোম্পানির লাভজনকতা ও বিক্রয় লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তারা আরও জানায়, আমাজন ও ওয়ালমার্টের মতো বড় খুচরা বিক্রেতারা তাদের নিজস্ব ব্র্যান্ডের পণ্য এবং বেশি মার্জিনের পণ্য বিক্রিতে বেশি আগ্রহী, যা প্রায়শই বিদেশে তৈরি হয়।
গবেষণা দলটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, এআই শপিং এজেন্টদের এই আচরণ শুধু গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করছে না, বরং 'মেড ইন ইউএসএ' আন্দোলনকেও দুর্বল করছে। অনেক গ্রাহক দেশীয় পণ্য কেনার জন্য সচেতনভাবে চেষ্টা করলেও, এআই সিস্টেমের কারসাজির কারণে তারা তা করতে পারছে না। গবেষণাটি খুচরা শিল্পের জন্য একটি কঠিন বার্তা বহন করছে: প্রযুক্তি যদি ব্যবসায়িক স্বার্থের কাছে জিম্মি হয়, তাহলে গ্রাহকের পছন্দ ও দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা উভয়ই হুমকির মুখে পড়বে।




