একটি এআই স্টার্টআপের প্রধান সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের কোম্পানির লোগোর উল্কি আঁকিয়ে নেওয়ার বিনিময়ে সঙ্গে সঙ্গেই চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার প্রস্তাব দেন, যা ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। জর্ডান জিটজ নামের ওই উদ্যোক্তা, যিনি ওয়াই কম্বিনেটর-সমর্থিত স্টার্টআপ লেমনলাইমের প্রধান নির্বাহী ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা, সম্প্রতি একটি লিংকডইন পোস্টে জানিয়েছিলেন যে ওয়াই কম্বিনেটরের স্টার্টআপ স্কুলের আফটার পার্টিতে তাঁর প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আনা এক শিল্পীর মাধ্যমে সাতজন ব্যক্তি তাঁর এই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে কোম্পানির লোগোর ট্যাটু করিয়েছেন। পোস্টে জিটজ উল্লেখ করেন যে পাঁচ মাস আগে প্রতিষ্ঠিত এই এআই অটোমেশন কোম্পানি ‘অসাধারণ মানুষদের খুঁজে বের করতে এবং তাদের মধ্যে কারা তাঁর মতো পাগলাটে তা যাচাই করতে’ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। তিনি আরও লেখেন, যারা কোম্পানিতে আবেদন করতে চান তাদের ‘নোট নেওয়ার প্রয়োজন’ হতে পারে। তবে অনলাইনে এই ঘটনার প্রশংসা করার পরই জিটজের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকে বলেন তিনি সীমা ছাড়িয়ে গেছেন, আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন যে বর্তমান কঠিন চাকরির বাজারে শুধু একটি ইন্টারভিউ পেতে এত চরম পদক্ষেপ নেওয়া কি সত্যিই যুক্তিযুক্ত? এক্স প্ল্যাটফর্মের এক ব্যবহারকারী লেখেন, ‘চাকরির ইন্টারভিউর জন্য নিজের গায়ে লেমনলাইমের লোগো পোড়ানো, তারপর বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা কল্পনা করুন।’ আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘চাকরির বাজার এতই নাজুক হয়ে গেছে যে বাচ্চাদের ইন্টারভিউ পাওয়ার জন্য স্থায়ী ট্যাটু করাতে হচ্ছে?’ জিটজ এবং ওয়াই কম্বিনেটর ফরচুনের মন্তব্যের অনুরোধের সঙ্গে সঙ্গেই সাড়া দেয়নি। সমালোচনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে জিটজ নিজের লিংকডইন পোস্ট সরিয়ে ফেলেন এবং একটি ক্ষমাপ্রার্থনা পোস্ট প্রকাশ করেন। স্টার্টআপ প্রধান জানান, পাঁচ সদস্যের এই কোম্পানি আসলে অনুষ্ঠানে আগতদের জন্য বিনামূল্যে ট্যাটু করার ব্যবস্থা করেছিল এবং কাউকে জোর করে কোম্পানির লোগো ট্যাটু করানো হয়নি। তবে তাঁর মুছে ফেলা লিংকডইন পোস্টে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে শুধুমাত্র ‘লেমনলাইম ট্যাটু’ করালেই ইন্টারভিউ দেওয়া হবে, পছন্দের অন্য কোনো ট্যাটু নয়। ক্ষমাপ্রার্থনায় তিনি লেখেন, ‘আমি যা ভেবেছিলাম মানুষকে চেনার একটি মজার ও স্মরণীয় উপায়, সেটি বাস্তবে ছিল বেপরোয়া এবং চাকরির সুযোগের সঙ্গে একটি স্থায়ী ট্যাটু জড়িয়ে ফেলার কারণে দুর্বল বিচারবুদ্ধির পরিচয় দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ট্যাটু করানো হোক বা না হোক, সবার জন্যই ইন্টারভিউ উন্মুক্ত ছিল এবং সাতজন আবেদনকারী এখনো সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। জিটজ নিজে এবং লেমনলাইমের প্রতিষ্ঠাতা দলের আরও কয়েকজন সদস্যও নিজেদের শরীরে কোম্পানির লোগোর ট্যাটু করিয়েছেন। যিনি জিটজের মুছে ফেলা পোস্টে স্থান পেয়েছিলেন এবং অনুষ্ঠানে ট্যাটু করিয়েছিলেন, সেই স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা ডিম্পল অমিঠা গারুদাপুরি এক্স-এ এক পোস্টে লেখেন যে তিনি নিজে লেমনলাইমের লোগোর ট্যাটু না করালেও ‘অন্য প্রায় সবাই সেটি করিয়েছে।’ নারী স্বাস্থ্য স্টার্টআপ স্ট্রি হেলথের প্রতিষ্ঠাতা গারুদাপুরি বলেন, তিনি পরিবর্তে একটি ‘ব্যক্তিগত’ ট্যাটু করিয়েছেন এবং তিনি এটি পছন্দ করেছেন। তবে সবার কাছে এই ধারণাটি অপছন্দের ছিল না। অ্যান্ডুরিলের প্রতিষ্ঠাতা পালমার লাকি জিটজের ক্ষমাপ্রার্থনার জবাবে এক্স-এ লেখেন যে তরুণ উদ্যোক্তার ক্ষমা চাওয়ার দরকার ছিল না, কারণ ‘সমালোচকরা কখনো সন্তুষ্ট হবে না।’ তিনি আরও লেখেন, ‘প্রাপ্তবয়স্করা ট্যাটু করার সিদ্ধান্ত নিলে আমার কোনো সমস্যা নেই। কলেজ-শিক্ষিত প্রাপ্তবয়স্কদের এমন শিশু হিসেবে দেখানোর দরকার নেই যাদের অভিভাবকদের সুরক্ষা প্রয়োজন।’ জিটজ তার ক্ষমাপ্রার্থনায় স্বীকার করেন যে ‘কোম্পানির এই কসরত ছিল দুর্বল বিচারবুদ্ধির পরিচায়ক’ এবং তিনি ‘বয়ে গিয়েছিলেন।’ তিনি লেখেন, ‘আমরা পোস্টগুলো সরিয়ে ফেলেছি এবং যারা অংশ নিয়েছিলেন তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলেছি। ভবিষ্যতে কেউ আফসোস করলে আমরা ট্যাটু অপসারণের খরচ দিতেও প্রস্তুত আছি।’ ঘটনাটি মূলত ফরচুন ডটকম-এ প্রকাশিত হয়।
কোম্পানির লোগোর ট্যাটু করালে চাকরির ইন্টারভিউ: সমালোচনার মুখে ক্ষমা চাইলেন স্টার্টআপ প্রধান
একটি এআই স্টার্টআপের প্রধান একটি পার্টিতে অংশগ্রহণকারীদের কোম্পানির লোগোর ট্যাটু করালে চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তীব্র সমালোচনার মুখে তিনি ওই পোস্ট সরিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন।




